এক বছর আগেও অধিকাংশ কৃষিজমি ছিল পানির নিচে। কৃষিজমি ছাপিয়ে পানি উঠতো উঠানে, বসতঘরে।
সেই দিন আর নেই। প্রকল্পের অধীনে নদীখননের ফলে পানি নেমে গেছে। জেগে উঠেছে উর্বর মাটি। সেই মাটি নিয়ে এখন নতুন স্বপ্নে বিভোর কৃষক।
যশোরের কেশবপুর জলাবদ্ধতামুক্ত হওয়ায় চলতি মৌসুমে সেখানে ব্যাপক হলুদ চাষ হয়েছে। মসলা জাতীয় ফসলের এই চাষে কৃষক যথেষ্ট লাভবান হবেন বলে আশা তাদের। হলুদ চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে কৃষি অফিস।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেশবপুরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হরিহর নদ পুনঃখনন করায় জলাবদ্ধতা নিরসন হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর জলাবদ্ধতামুক্ত থাকায় চলতি মৌসুমে কৃষক হলুদ চাষ করেছেন। উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা, মির্জাপুর, শ্রীফলা, প্রতাপপুর, বায়সা; পাঁজিয় ইউনিয়নের কমলাপুর, গড়ভাঙ্গা, বেলকাঠি, সাগরদত্তকাঠি; মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মঙ্গলকোট, বসুন্তিয়া কেদারপুর; হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর, কাবিলপুর, হাসানপুর; ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চাদড়া, মির্জানগর, বরনডালি, গোপালপুর এবং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর, ভালুকঘর ও বেগমপুর এলাকায় জমিতে ব্যাপক হলুদ চাষ হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সরেজমিন উপজেলার বেলকাঠি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার অধিকাংশ কৃষিজমি হলুদের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। এ সময় কথা হয় গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে। এক বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করেছেন তিনি।
সিদ্দিকুর জানান, হলুদ চাষে খরচ একেবারে সীমিত। বীজভেদে কাঠাপ্রতি খরচ হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বীজ হলুদ সাত থেকে আট কেজির মূল্য ৫০০ টাকা। উৎপাদন হয় কাঠাপ্রতি পাঁচ থেকে সাত মণ। কাঁচা হলুদ প্রকারভেদে বিক্রি হয় এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে।
উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, এ বছর তিনি আড়াই বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। গত বছর চাষ করেছিলেন দুই বিঘায়। প্রতিবিঘায় ফলন পেয়েছিলেন ১২০ মণ হলুদ। প্রতিমণ হলুদ এক হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করে লাভবান হয়েছিলেন। এ কারণে এ বছর হলুদ চাষের জন্য বেছে নেন আড়াই বিঘা জমি।
উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের কৃষক আফজালুল হকের ভাষ্য, এলাকায় জলাবদ্ধতা না থাকায় কৃষক হলুদ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তিনিও হলুদ চাষ করেছেন এক বিঘা জমিতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, গতবছর কেশবপুরে হলুদের আবাদ হয়েছিল ১০০ হেক্টর জমিতে। এবার জলাবদ্ধতামুক্ত থাকায় ১১৪ হেক্টর জমিতে কৃষক হলুদ চাষ করেছেন। আবাদ ভালো হওয়ায় কৃষক লাভবান হবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন জানান, হরিয়ার নদ খনন করায় কেশবপুরের গৌরীঘোনা, সুফলাকাঠি, পাঁজিয়া, মজিদপুর, মঙ্গলকোট এবং বিদ্যানন্দকাঠি ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বছরের পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে জলাবদ্ধ থাকতো। জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ায় কৃষক এবার মনের আনন্দে ফসল উৎপাদন করতে পারছে।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জলাবদ্ধতামুক্ত থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার হলুদের চাষ বেশি হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক লাভবান হবেন।’ তিনি বলেন, ‘কেশবপুর উপজেলার কৃষকের মশলাজাতীয় ফসল চাষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ বিষয়ে হলুদচাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























