সুদানে সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা কর্মী ও অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি ইমার্জেন্সি লয়ার্স নামক মানবাধিকার সংস্থা জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) খার্তুমে তিনটি শিশু নিহত হয়। এছাড়াও শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যের আল-দিবাব শহরের একটি পরিবহন কেন্দ্রে, যেখানে বাজার শেষে সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। উক্ত ড্রোন হামলায় সরাসরি ৮০ জন নিহত হন এবং আহত ৪৭ জনকে নিকটস্থ আল-মুজলিয়াদ শহরে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩০ জন মারা যান। আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং ইমার্জেন্সি লয়ার্স এই হামলার জন্য সুদান সেনাবাহিনীকেই দায়ী করেছে।
অন্যদিকে নীল নদ সংলগ্ন ব্লু নাইল রাজ্যে আরএসএফের পরিচালিত ড্রোন হামলায় ৪১ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ নিহত হয়। এছাড়া দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা শহরে ড্রোন হামলায় সাতজন আরএসএফ কর্মকর্তাসহ ১৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক সুদানজুড়ে অব্যাহত ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
গৃহযুদ্ধের কারণে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও চীন ও রাশিয়া তাতে আপত্তি জানিয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























