অস্ট্রেলিয়ার ওয়াঙ্গারাত্তা শহরে স্থানীয় এক নারী সংসদ সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনার পর নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে হামলাকারীকে আটক করে প্রশংসায় ভাসছেন রিকি জেফরিজ নামে এক নাপিত। হামলায় গুরুতর আহত সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে বাঁচাতে নিজের দোকান থেকে ছুটে গিয়ে সশস্ত্র হামলাকারীকে মাটিতে চেপে ধরেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ রিকি জেফরিজের এই সাহসিকতার তীব্র প্রশংসা করে তাকে ‘বীর’ বা ‘নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের সেলুনে এক গ্রাহকের চুল কাটা শেষ করার পরপরই বাইরে বিকট শব্দ শুনতে পান রিকি জেফরিজ। বাইরে এসে তিনি দেখেন, একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী এক চালক স্থানীয় জনপ্রিয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হেলেন হেইনসকে (৬৫) সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। হেইনস তখন তার গাড়ির পেছনের অংশ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছিলেন।
ঘটনা দেখামাত্রই জেফরিজ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি লক্ষ্য করেন হামলাকারীর পকেটে একটি ছুরি রয়েছে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তিনি কৌশলে লোকটির পকেট থেকে ছুরিটি বের করে দূরে ফেলে দেন এবং তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মাটিতে চেপে ধরেন। পুলিশ আসা পর্যন্ত তিনি একাই অভিযুক্তকে আটকে রাখেন।
হামলায় গুরুতর আহত হেলেন হেইনসকে দ্রুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে চালকটি ইচ্ছা করেই ইউ-টার্ন নিয়ে এসে হেইনসকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটির তদন্তে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাও যুক্ত হয়েছে।
কোনো সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য এখনও জানা না গেলেও এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত বিরল।
প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসী তাকে প্রশংসায় ভাসালেও রিকি জেফরিজ বেশ বিনীত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে নায়ক মনে করি না। একজন মানুষ বিপদে পড়েছিলেন এবং আমার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল, তাই আমি সাহায্য করেছি।’
উল্লেখ্য, জেফরিজের সেলুনটি আহত সাংসদ হেইনসের নির্বাচনী কার্যালয়ের একেবারেই পাশেই অবস্থিত।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























