বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি দেওয়ানি আইনি পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা গ্রুপের বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে যুক্ত করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। সম্পদ উদ্ধার না হলে পারিশ্রমিক না দেওয়ার ‘নো রিকভারি, নো ফি’ মডেলেও এগোচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। একাধিক মামলা, আদালতের আদেশে সম্পদ জব্দ বা ক্রোক ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের তথ্য জানতে চিঠি পাঠায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে মার্চের শুরুতে মোমেন কমিশনের পদত্যাগের পর পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কার্যক্রমে নেমে আসে স্থবিরতা।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার কাজ শুরু করেছে: অর্থমন্ত্রী
চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে নতুন দুদক কমিশন দায়িত্ব পেলে ফের গতি পায় অর্থ উদ্ধার কার্যক্রম। এবার পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি দেওয়ানি আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলা ও অনুসন্ধানের আওতায় যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়। এসব মামলায় দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ জব্দ, সংযুক্তি ও অবরুদ্ধ করার উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোও আন্তর্জাতিক আইনি এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। সম্পদের অবস্থান শনাক্তকরণ, মালিকানা যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ও সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য একই সঙ্গে ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের সারসংক্ষেপে যা আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগের সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের উৎস, অর্থপাচারের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অপরাধের সঙ্গে সম্পদের সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যৌথ অনুসন্ধান দল বা জিআইটির মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, দুর্নীতি দমন সংস্থা ও আর্থিক গোয়েন্দাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে সমন্বিতভাবে। তদন্তের ভিত্তিতে আদালতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দ, সংযুক্তি ও ফ্রিজ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
পাচারের অর্থ ও সম্পদ ফেরাতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেওয়ানি কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে বিদেশে পাচার করা সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও অন্য সম্পদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সম্পদ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এই দ্বিমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে ফৌজদারি বিচারের ফলাফল ও দেওয়ানি দাবির কার্যক্রম সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে অবৈধভাবে স্থানান্তরিত সম্পদ দ্রুত শনাক্ত, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে।
প্রথম ধাপে ৬, দ্বিতীয় ধাপে ৪২ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ
প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা গ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪২টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে সম্পদ অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ব্যাংকগুলোর উদ্যোগে অনুসরণ করা হচ্ছে ‘নো রিকভারি, নো ফি’ নীতি। অর্থাৎ, সম্পদ উদ্ধার না হলে নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পারিশ্রমিক দিতে হবে না। এনবিআর, দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
কাজ শুরু করেছে এআরটিএফ
সংস্থা দুটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স (এআরটিএফ) কাজ শুরু করেছে। পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ সমন্বয় করছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা দিচ্ছে। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা আছেন।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গতি পাচ্ছে পাচার অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া
জানতে চাইলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘টাস্কফোর্সের দায়িত্ব অবৈধ আর্থিক প্রবাহ শনাক্ত করা, চুরি হওয়া সম্পদ স্থানান্তরের তদন্ত করা, অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূর করার পলিসি গ্রহণ করা।’
তিনি বলেন, ‘যে দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেই দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করা ও অর্থ ফিরিয়ে আনা আমাদের লক্ষ্য। তবে বিদেশ থেকে অর্থ উদ্ধার অনেক চ্যালেঞ্জের। বেশিরভাগ দেশেই এ সংক্রান্ত তথ্য পেতে আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা ও অনুসন্ধানের জন্য যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এসব তদন্তে দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, কর-শুল্ক ফাঁকি, ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আদালতের আদেশে প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা মূল্যের দেশি-বিদেশি সম্পদ সংযুক্ত, জব্দ বা অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশে স্থাবর সম্পদ ১০ হাজার ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। বিদেশে স্থাবর সম্পদ ১৫ হাজার ১২৪ কোটি ১ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এসব সম্পদের মধ্যে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ট্রাস্ট ও বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ তহবিল রয়েছে। তবে সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করার আদেশের অর্থ এই নয় যে ওই অর্থ এরই মধ্যে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বিদেশে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আসতে ৩-৫ বছর লাগতে পারে
জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সম্পদ পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগে ১৪২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় চার্জশিট দাখিল ও ছয়টি মামলায় আদালতের রায় হয়েছে। মামলাগুলোতে ৭৬২ জনের বেশি সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে পলায়ন বা সম্পদ সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে ১৫৮ জনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য আদালতের আদেশ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেআইটি নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। মামলা ও চার্জশিট হয়েছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি থাকলে কমিশন গণমাধ্যমকে জানাবে।’
জেআইটির কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। যৌথ অনুসন্ধানের কার্যক্রমও চলমান। কোনো মামলার কার্যক্রম বা অনুসন্ধান থেমে নেই। ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায়ে দেওয়ানি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।-দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান
দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেআইটির কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। যৌথ অনুসন্ধানের কার্যক্রমও চলমান। কোনো মামলার কার্যক্রম বা অনুসন্ধান থেমে নেই। ফৌজদারি তদন্তের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায়ে দেওয়ানি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
এ পদ্ধতিতে ঋণের অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করে বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা, বিনিয়োগ বা ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে এস আলম, বেক্সিমকো, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপকে দেওয়ানি কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আনুমানিক ১২ বিলিয়ন ডলার।
পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতে গতি পাচ্ছে জেআইটির অনুসন্ধান
এ উদ্যোগে এককভাবে কাজ করার পরিবর্তে ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে অনুসরণ করছে কনসোর্টিয়াম পদ্ধতি। ছয়টি কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আটটি ব্যাংককে। তারা আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
এ পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগসংক্রান্ত চিঠি সই হয়েছে, বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে পরবর্তী ধাপে।
এই মডেলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব অর্থায়নে সম্পদ অনুসন্ধান ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি অংশ তাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হবে। এতে ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ব্যয়ের চাপ কমলেও সম্পদ শনাক্ত, আইনি দাবি প্রতিষ্ঠা ও অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
প্রাথমিক ছয় গ্রুপের বাইরে বিদেশে সম্পদ থাকার তথ্য ও উল্লেখযোগ্য ঋণ এক্সপোজার বিবেচনায় আরও ৪২টি গ্রুপকে দ্বিতীয় ধাপের দেওয়ানি কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এসব গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ আনুমানিক দুই বিলিয়ন ডলার।
পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত ফেরাতে নতুন গভর্নরের তাগিদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজের তথ্যের ভিত্তিতে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন আরও ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে তাদের বিদেশে থাকা সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ডসহ ১২টি দেশকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার, ক্রোল, ইওয়াই ও ডেন্টনসের নাম।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং আর্থিক মূল্য শনাক্তের কাজ করছে। সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তা ফ্রিজ বা জব্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন এবং আর্থিক মূল্য শনাক্তের কাজ করছে। সম্পদ শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তা ফ্রিজ বা জব্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে আদালতের নির্দেশে সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’
বিদেশে সম্পদ শনাক্ত ও ফেরত আনতে ১৬টি বিচারব্যবস্থার কাছে ৩০টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে। মালয়েশিয়া, হংকং ও চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি)।
সম্পদ অনুসন্ধান, আর্থিক লেনদেনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও বিদেশি বিচারব্যবস্থায় আইনি পদক্ষেপের সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ (স্টার), জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সমন্বয় সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সহযোগিতা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























