চট্টগ্রামে সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সৈকত (২৪) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে নগরের হালিশহরে নিজ বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সৈকত মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের ঘটনায় করা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় সৈকতসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাকে ঘিরে ধরেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়। পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তার কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন আদায় করা হয়। এরপর বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।
জোর করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পর সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়ার আগে সামাজিকভাবে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে জোর করে একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে কিংবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর হালিশহর থানায় মামলা করেন সাংবাদিক আবুল হোসাইন।
আগে গ্রেফতার দুজন
পুলিশ জানায়, এ মামলায় এর আগে এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ নম্বর আসামি সৈকতকে।
মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো. সাইফুল প্রকাশ ভেড়া সাইফুল, বাইট্টা বাবুল, মিজান, অনিক, মহিত ও রবিন। এছাড়া, অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জু বলেন, রোববার বিকেলে সৈকতকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার, লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বাংলা৭১নিউজ/এবি


























