ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্বকের পিলিং দূর করার উপায়

প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিন শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন সানস্ক্রিন লাগাতে যান, ঠিক তখনই শুরু হয় আসল গোলমাল। সানস্ক্রিন ত্বকে বসে থাকার বদলে ছোট ছোট গুটি বা দলা পাকিয়ে খসে পড়তে থাকে। মেকআপ তো দূর, পুরো স্কিনকেয়ার রুটিনটাই পণ্ড হয়ে যায়। অনেকেই এ সমস্যাকে ত্বকের চামড়া ওঠা বা পিলিং ভেবে ভুল করেন। কিন্তু বিউটি সায়েন্সে সানস্ক্রিনের এই অবাধ্যসুলভ আচরণকে বলা হয় পিলিং। এটি কেবল বিরক্তিকরই নয়, আপনার মূল্যবান প্রসাধনীর অপচয়ও বটে। তবে সঠিক নিয়ম মানলে এই ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

কেন ঘটে সানস্ক্রিন পিলিং?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিলিংয়ের প্রধান কারণ দুটি আপনার ব্যবহৃত প্রসাধনী পণ্যের রাসায়নিক গঠন এবং সেগুলো ব্যবহারের ভুল পদ্ধতি। আপনি হয়তো খুব দামি সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন, কিন্তু ভুল নিয়মে ব্যবহারের ফলে তা ত্বকে শোষিত না হয়ে উপরিভাগে জমে যাচ্ছে।

পিলিং প্রতিরোধের ৫ স্মার্ট কৌশল

​১. সঠিক নিয়মে এক্সফোলিয়েশন
​ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃতকোষ ও ময়লা সানস্ক্রিন শোষণে বাধা দেয়। তাই সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করুন। ফিজিক্যাল স্ক্রাবের চেয়ে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি কার্যকর। তবে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

​২. পাতলা থেকে ভারী লেয়ারিং
স্কিনকেয়ারের মূল মন্ত্র হলো অণুর আকার বা মলিকুলার ওজন বুঝে পণ্য ব্যবহার করা। সিরাম বা টোনারের মতো পাতলা পণ্যের অণু ছোট হয়, যা সহজে ত্বকে ঢোকে। তাই প্রথমে টোনার বা সিরাম, তার পর ময়েশ্চারাইজার এবং একদম শেষ ধাপে সানস্ক্রিন লাগান।

৩. ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের নিয়ম
একটি পণ্য মাখার পরপরই অন্যটি লেয়ার করবেন না। ত্বকে পণ্যটি শোষিত হতে অন্তত ৩০-৬০ সেকেন্ড সময় দিন। তাছাড়াও পণ্যের ওপর পণ্য জমে দলা পাকিয়ে যাওয়া রোধ করা যায়।

৪. উপাদানের ওপর নজর দিন
​সানস্ক্রিনে ব্যবহৃত উপাদান সিলিকন (যেমন-ডাইমেথিকন, অ্যামোড্রাইমেথিকন) বা জানথান গাম (যা সানস্ক্রিন ঘন করতে ব্যবহৃত হয়) অন্য পণ্যের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পিলিং তৈরি করে। মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোনাইজড মিনারেল যুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিন।

​৫. মাখার কৌশলে পরিবর্তন
​সানস্ক্রিন ত্বকে কখনোই জোরে ঘষে মাখা উচিত নয়। বরং আঙুলের ডগায় নিয়ে পুরো মুখে আলতো করে ড্যাপ ড্যাব করে বসিয়ে দিন।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন
​সানস্ক্রিন পিলিং এড়াতে ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য কেনা জরুরি, যেমন-তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সুপার লাইটওয়েট ও ড্রাই ফর্মুলার সানস্ক্রিন। ​শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং উপাদানযুক্ত সানস্ক্রিন। ​অ্যাকনেপ্রবণ ত্বকের জন্য ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সুগন্ধিহীন ফর্মুলা। পিলিং কোনো জটিল সমস্যা নয়, বরং এটি ভুল রুটিনের সংকেত। সঠিক নিয়ম মেনে যত্ন নিলে আপনার ত্বক থাকবে সুরক্ষিত ও প্রাণবন্ত।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ত্বকের পিলিং দূর করার উপায়

আপডেট সময় ১২:১১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিন শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন সানস্ক্রিন লাগাতে যান, ঠিক তখনই শুরু হয় আসল গোলমাল। সানস্ক্রিন ত্বকে বসে থাকার বদলে ছোট ছোট গুটি বা দলা পাকিয়ে খসে পড়তে থাকে। মেকআপ তো দূর, পুরো স্কিনকেয়ার রুটিনটাই পণ্ড হয়ে যায়। অনেকেই এ সমস্যাকে ত্বকের চামড়া ওঠা বা পিলিং ভেবে ভুল করেন। কিন্তু বিউটি সায়েন্সে সানস্ক্রিনের এই অবাধ্যসুলভ আচরণকে বলা হয় পিলিং। এটি কেবল বিরক্তিকরই নয়, আপনার মূল্যবান প্রসাধনীর অপচয়ও বটে। তবে সঠিক নিয়ম মানলে এই ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

কেন ঘটে সানস্ক্রিন পিলিং?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পিলিংয়ের প্রধান কারণ দুটি আপনার ব্যবহৃত প্রসাধনী পণ্যের রাসায়নিক গঠন এবং সেগুলো ব্যবহারের ভুল পদ্ধতি। আপনি হয়তো খুব দামি সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন, কিন্তু ভুল নিয়মে ব্যবহারের ফলে তা ত্বকে শোষিত না হয়ে উপরিভাগে জমে যাচ্ছে।

পিলিং প্রতিরোধের ৫ স্মার্ট কৌশল

​১. সঠিক নিয়মে এক্সফোলিয়েশন
​ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা মৃতকোষ ও ময়লা সানস্ক্রিন শোষণে বাধা দেয়। তাই সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করুন। ফিজিক্যাল স্ক্রাবের চেয়ে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি কার্যকর। তবে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

​২. পাতলা থেকে ভারী লেয়ারিং
স্কিনকেয়ারের মূল মন্ত্র হলো অণুর আকার বা মলিকুলার ওজন বুঝে পণ্য ব্যবহার করা। সিরাম বা টোনারের মতো পাতলা পণ্যের অণু ছোট হয়, যা সহজে ত্বকে ঢোকে। তাই প্রথমে টোনার বা সিরাম, তার পর ময়েশ্চারাইজার এবং একদম শেষ ধাপে সানস্ক্রিন লাগান।

৩. ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের নিয়ম
একটি পণ্য মাখার পরপরই অন্যটি লেয়ার করবেন না। ত্বকে পণ্যটি শোষিত হতে অন্তত ৩০-৬০ সেকেন্ড সময় দিন। তাছাড়াও পণ্যের ওপর পণ্য জমে দলা পাকিয়ে যাওয়া রোধ করা যায়।

৪. উপাদানের ওপর নজর দিন
​সানস্ক্রিনে ব্যবহৃত উপাদান সিলিকন (যেমন-ডাইমেথিকন, অ্যামোড্রাইমেথিকন) বা জানথান গাম (যা সানস্ক্রিন ঘন করতে ব্যবহৃত হয়) অন্য পণ্যের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পিলিং তৈরি করে। মিনারেল সানস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাইক্রোনাইজড মিনারেল যুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিন।

​৫. মাখার কৌশলে পরিবর্তন
​সানস্ক্রিন ত্বকে কখনোই জোরে ঘষে মাখা উচিত নয়। বরং আঙুলের ডগায় নিয়ে পুরো মুখে আলতো করে ড্যাপ ড্যাব করে বসিয়ে দিন।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন নির্বাচন
​সানস্ক্রিন পিলিং এড়াতে ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্য কেনা জরুরি, যেমন-তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সুপার লাইটওয়েট ও ড্রাই ফর্মুলার সানস্ক্রিন। ​শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং উপাদানযুক্ত সানস্ক্রিন। ​অ্যাকনেপ্রবণ ত্বকের জন্য ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সুগন্ধিহীন ফর্মুলা। পিলিং কোনো জটিল সমস্যা নয়, বরং এটি ভুল রুটিনের সংকেত। সঠিক নিয়ম মেনে যত্ন নিলে আপনার ত্বক থাকবে সুরক্ষিত ও প্রাণবন্ত।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস