ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার Logo তাইওয়ানে পৌঁছাল প্রথম দুটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান Logo প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo ভারতীয় নৌসেনাকে ফাঁদে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ‘হাতিয়ে নিলো’ পাকিস্তানি নারী! Logo সীমান্তে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৯ ককটেল উদ্ধার Logo পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএর তাগিদ, ব্যবসায়ী দল পাঠালে বিটুবি বৈঠকের আশ্বাস Logo রাজধানীতে আগামীকাল ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo পুঁজিবাজারের চেহারা এক বছরে বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী Logo গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দামে অনিয়ম, অভিযানে ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কাগজবিহীন পরীক্ষার যুগে রাবি, চালু ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’

কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সেখানে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফলাফল দেখতে পারছেন।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেমে’ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বহুনির্বাচনী ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও দেখা যাবে।

সিস্টেমটিতে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজে প্রশ্ন তৈরি এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রাখা হয়েছে। এতে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, পরীক্ষার এ পদ্ধতি তাকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই এতে উপকৃত হবেন এবং নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ই-এক্সাম তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং ফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

কাগজবিহীন পরীক্ষার যুগে রাবি, চালু ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থায় যাত্রা শুরু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সেখানে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফলাফল দেখতে পারছেন।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেমে’ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বহুনির্বাচনী ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও দেখা যাবে।

সিস্টেমটিতে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজে প্রশ্ন তৈরি এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রাখা হয়েছে। এতে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, পরীক্ষার এ পদ্ধতি তাকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েই এতে উপকৃত হবেন এবং নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ই-এক্সাম তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং ফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ