ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
একই সঙ্গে নোবেল পুরস্কার নিয়ে তাঁর আগ্রহ এবং নোবেল কমিটির ওপর তাঁর প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে ট্রাম্পও কয়েকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
পরে মাচাদো তাঁর পাওয়া নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে দেন।
পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো বলেন, গত বছরের ঘটনাগুলো এবার নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। কমিটি এমন কোনো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়লেও পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারবেন।
জেরলো আরও বলেন, কাউকে পুরস্কার দিলে তিনি ট্রাম্পের চাপের মুখে পড়বেন কি না এবং পুরস্কারটি তাঁর জন্য উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হবে কি না—এসব বিষয়ও কমিটি বিবেচনা করতে পারে।
এ বছর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নাম আলোচনায় এসেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা ৯ অক্টোবর দেওয়ার কথা।
প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এর আগে তাঁকে ‘দুর্বল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান, শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মেটানোর পক্ষে অবস্থান এবং অভিবাসীদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বানের কারণে পোপ লিওর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও তিনি একটি বিশ্বপত্র প্রকাশ করেছেন।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক করিম হাগাগ বলেন, পোপ লিও শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন, তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারির সমালোচনা করায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
নিরাপদ প্রার্থী বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা?
গত বছরের ঘটনাগুলোর কারণে এবার নোবেল কমিটি তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত কোনো প্রার্থীকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন প্রার্থী বেছে নেওয়া হতে পারে, যাকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।
গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য ট্রাম্প নরওয়েকে দায়ী করেছিলেন। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। এবার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর নামও রয়েছে। এটি সুদানের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক, যা দেশটির গৃহযুদ্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষকে জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শিশুদের সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে ইতিহাসবিদ ও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে লেখক ওভেইন্ড স্টেনারসেন মনে করেন, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতির কারণে নোবেল কমিটির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য শান্তি পুরস্কার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আইসিসিকে পুরস্কার দিলে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আর আইসিজেকে পুরস্কার দেওয়া হলে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মেটানোর নীতির প্রতি সমর্থন জানানো হবে।
এদিকে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো মনে করেন, ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম।
নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের চাপের বিষয়টি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া রেসাকেও বিস্মিত করেছে। ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সাংবাদিক বলেন, গত বছর তিনি বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে দেখেছেন।
সেপ্টেম্বরে অসলো সফরের সময় রয়টার্সকে মারিয়া রেসা বলেন, ‘গুণ্ডারা বিশ্ব শাসন করে না। আমাদের কিছু নীতি আছে, যা আমাদের মেনে চলতে হবে। শক্তিই সবকিছু ঠিক করে দেয়, এমনটা নয়।’
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























