ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার উদ্যোগ ইতালির

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করা এবং প্রতিটি ক্লাসে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র এক যুব সমাবেশে এ কথা জানান।

মেলোনি জানান, অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় সমাজে সঠিক মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি একটি ক্লাসে মাত্র একজন শিশু ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তবে সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় দ্রুত ভাষাটি শিখে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু যদি ভাষা না জানা শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়, তবে তা আর সমাজিক একীকরণ থাকে না; বরং অবহেলায় পরিণত হয়। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসংক্রান্ত একটি বিল পেশ করা হবে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়বে, তাদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি ক্লাসে বোরকা বা নিকাব পরে আসা নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে মেলোনি স্পষ্ট করে বলেন, ইতালিতে কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অজুহাতে কাউকে মুখ লুকিয়ে স্কুলে আসতে দেওয়া হবে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইউরোপের যে দেশগুলোতে অভিবাসীদের চাপ সবচেয়ে বেশি, ইতালি তাদের অন্যতম। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় পোশাক ও নাগরিকত্ব নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

গবেষণা সংস্থা আইএসএমইউয়ের তথ্য মতে, ইতালির স্কুলগুলোতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১১.৬ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার উদ্যোগ ইতালির

আপডেট সময় ১১:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করা এবং প্রতিটি ক্লাসে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’র এক যুব সমাবেশে এ কথা জানান।

মেলোনি জানান, অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ইতালীয় সমাজে সঠিক মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি একটি ক্লাসে মাত্র একজন শিশু ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তবে সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় দ্রুত ভাষাটি শিখে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু যদি ভাষা না জানা শিশুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়, তবে তা আর সমাজিক একীকরণ থাকে না; বরং অবহেলায় পরিণত হয়। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসংক্রান্ত একটি বিল পেশ করা হবে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়বে, তাদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি ক্লাসে বোরকা বা নিকাব পরে আসা নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে মেলোনি স্পষ্ট করে বলেন, ইতালিতে কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অজুহাতে কাউকে মুখ লুকিয়ে স্কুলে আসতে দেওয়া হবে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইউরোপের যে দেশগুলোতে অভিবাসীদের চাপ সবচেয়ে বেশি, ইতালি তাদের অন্যতম। বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় পোশাক ও নাগরিকত্ব নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

গবেষণা সংস্থা আইএসএমইউয়ের তথ্য মতে, ইতালির স্কুলগুলোতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১১.৬ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ