সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মের বাইরে গিয়ে দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এভাবেই বিদ্যালয় চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রুটিন অনুযায়ী বিদ্যালয় চলার কথা থাকলেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট এ দিনে টিফিনের পর আর ক্লাস হয় না, যার ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সপ্তাহের একদিন নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন অভিযোগ বেশ কয়েকজন অভিভাবকের। গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি এই প্রতিবেদকের নজরে আসে। পরে পথে ওই বিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি সামনে আসে।
বিদ্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের পরিবার ময়মনসিংহে বসবাস করেন। তাই বিকেল ৩টায় ওই শিক্ষকদের মোহনগঞ্জের ট্রেন ধরার সুবিধা দিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন। গত বৃহস্পতিবার এই বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক ছুটিতে ছিলেন। ওই দিন যথারীতি বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টায় ছুটি দেওয়া হয় এবং প্রধান শিক্ষকসহ উপস্থিত শিক্ষকরাও বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কার নির্দেশে প্রতি বৃহস্পতিবার টিফিনের সময় বিদ্যালয় ছুটি হচ্ছে– তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বছরের শুরু থেকেই এভাবে চলছে। বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল থাকে এবং প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন বলার কথা নয়। গত বৃহস্পতিবার ৬ জন শিক্ষক ছুটিতে ছিলেন এবং বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম থাকায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে এমনটি যেন না হয়, তা প্রধান শিক্ষককে বলে দেবেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























