নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, নন্দীগ্রামে তার শিবির থেকে আর কোনো প্রার্থী দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইন্ডিয়া জোটের প্রতি সংহতি জানাতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করতে প্রস্তুত। আমি চাই, বিজেপি ভারত থেকে চলে যাক। ইন্ডিয়া জোটের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতি রয়েছে।
মমতা আরো বলেন, ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার তাকে ফোন করেছিলেন। আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন।
মমতার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তার শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
সঞ্চিতার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে তার বৈঠক হয়। বৈঠকটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের সাবেক বিধায়ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী।
তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিরোধের মধ্যে শুক্রবার মমতার শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও দলটির প্রচলিত ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক স্থগিত করার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আসন্ন উপনির্বাচনে মমতার শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নির্বাচন করবে। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতীক। অন্য গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খামের প্রতীক।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর দাবি নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা সাময়িকভাবে কার্যকর থাকবে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক স্থগিত করে। ফলে ১৯৯৮ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যবহৃত নাম ও প্রতীক আপাতত কোনো গোষ্ঠীই ব্যবহার করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও প্রতিহিংসা রয়েছে।
মমতা দাবি করেন, তার শিবিরের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং দলের কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্ষমতাসীন বিজেপির হয়ে কাজ করছে এবং দলীয় কর্মীদের দলবদলের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো দাবি করেন, তার দলের প্রায় ১৪ হাজার কর্মী কারাগারে রয়েছেন। তিনি নিজেও গৃহবন্দী রয়েছেন এবং কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার শিবির লড়াই চালিয়ে যাবে জানিয়ে মমতা বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না। আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’
নিজের প্রতিষ্ঠিত দলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি এই দুনিয়া ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে পারি না।’
তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিরোধের শুরু বিধানসভায় দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে। পরে তা সংসদে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। দুই পক্ষই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকের দাবি জানায়।
জুনে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সমর্থন করেন। মমতা শিবিরের মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তাকে সমর্থন করা হয়। পরে বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে স্বীকৃতি দিলে বিধানসভায় তৃণমূলের বিভক্তি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
এর পাঁচ দিন পর বিরোধ সংসদেও ছড়িয়ে পড়ে। জ্যেষ্ঠ নেতা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভার ২০ জন সদস্য এনসিপিআইয়ে যোগ দেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে পৃথক জোট হিসেবে সমর্থন করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন।
বিধায়কদের একটি অংশ পৃথক নেতৃত্ব কাঠামোর পক্ষেও অবস্থান নেয়। জ্যেষ্ঠ বিধায়ক অরূপ রায়কে ওই কাঠামোর চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















