আমেরিকার শীর্ষ দৈনিক ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর বছরের সেরা ৫০টি রেস্তোরাঁর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে নিউ জার্সির বাংলাদেশি খাবারের দোকান ‘কড়াই কিচেন’। রেস্তোরাঁটি খাঁটি বাংলাদেশি ঘরোয়া খাবারের স্বাদের জন্য বেশ সুপরিচিত।
হাডসন কাউন্টিতে অবস্থিত মা ও মেয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটির মালিক নূর-ই গুলশান রহমান ও নূর-ই ফারহানা রহমান।
‘কড়াই কিচেন’ মূলত বাংলাদেশি খাবারের জন্য পরিচিত। রেস্তোরাঁটিতে সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলোতে মূলত পার্সেল বা টেকআউট সুবিধা থাকে এবং শুক্র ও শনিবার রাতে এখানে আয়োজন করা হয় আট পদের বিশেষ নৈশভোজ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আম্মার দাওয়াত’।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ঘটনা কড়াই কিচেনের জন্য নতুন নয়। এর আগেও গত বছর এনজে ডটকমের (NJ.com) করা নিউ জার্সির সেরা ৯৯টি রেস্তোরাঁর তালিকায় শীর্ষ স্থান ছিনিয়ে নিয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনায় কড়াই কিচেন সম্পর্কে লেখা হয়েছে, ‘চিকেন টিক্কা মাসালা নেই’—এটিই হলো নূর-ই গুলশান রহমান এবং তার মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের পরিচালিত এই ছোট্ট বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটির মূলমন্ত্র। তারা মূলত ২০১৮ সালে বড় মিসেস রহমানের চমৎকার হাতের তৈরি ঘরোয়া খাবার নামে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যেখানে স্টার্নো’ বা বিশেষ হিটারের সাহায্যে বুফে পরিবেশন করা হতো এবং টেক-আউট এবং ডেলিভারি সেবা দিত। বর্তমানেও তারা এই সেবাই দিয়ে থাকেন। তবে সপ্তাহে দুদিন রাতে এখানে বসে খাওয়ার সুযোগ রয়েছে—যেখানে তিন ঘণ্টা ধরে চলে আট পদে এক বিশাল ভোজ, যা শেষ পর্যন্ত পদের সংখ্যার বিচারে আটটির চেয়ে অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়। কাঁচা মরিচ ও সরিষার তেলের ব্যবহার তাদের খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়া প্রতিটি চালের দানা থেকে শুরু করে সবকিছুই অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সাথে রান্না করা হয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় আপনার পেট যেমন ভরে ওঠে, তেমনি মনটাও প্রশান্তিতে ভরে যায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও নিউ জার্সির বেশ কয়েকটি খাবার দোকান নিউ ইয়র্ক টাইমসের বার্ষিক সেরা তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। ২০২৫ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন পার্কের ‘চাটপাটি দিল্লি’ এবং ২০২৪ সালে নিউফিল্ডের ‘সুইট আমালিয়া মার্কেট অ্যান্ড কিচেন’ এই তালিকায় স্থান পায়। এ বছরের তালিকায় থাকা অন্য দুই বিখ্যাত রেস্তোরাঁর মধ্যে রয়েছে শিকাগোর ‘ক্রিপিজ’ এবং ফিলাডেলফিয়ার ‘বোম্ব বোম্ব’।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























