জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে বন্ধ মৌসুমে আরোহণকারী পর্যটকদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার করতে এখন থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অপ্রস্তুত ও মৌসুম বহির্ভূত সময়ে পাহাড়ে চড়ার প্রবণতা বাড়তে থাকায় ইয়ামানাশি প্রিফেকচার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ফির মূল উদ্দেশ্য হলো আরোহণ মৌসুমের বাইরে বিপজ্জনক ও পরিকল্পনাহীন আরোহণ নিরুৎসাহিত করা। সোমবার ঘোষিত প্রস্তাব অনুসারে, বন্ধ মৌসুমে ইয়োশিদা ট্রেইলের প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় থাকা ষষ্ঠ স্টেশনের ওপরে যেতে চাইলে যেকোনো পর্বতারোহীকে আগে থেকে আরোহণ পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। সেই পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত পথ ও ব্যবহৃত সরঞ্জামের বিস্তারিত তথ্য থাকতে হবে।
পরিকল্পনায় কোনো অংশ নিরাপদ না মনে হলে কর্তৃপক্ষ পরিবর্তনের পরামর্শ দেবে। কিয়োডো নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, পরিকল্পনা জমা না দিয়ে প্রিফেকচারের দুর্যোগ মোকাবিলা হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার প্রয়োজন হলে সেই ব্যক্তিকে পুরো খরচ বহন করতে হবে। যারা পরিকল্পনা জমা দিয়েও তা উপেক্ষা করবেন বা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা পরামর্শ মানবেন না। বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় যাদের সরঞ্জাম বা আরোহণ পদ্ধতি চরম বেপরোয়া বলে প্রমাণিত হবে, তাদের ক্ষেত্রেও উদ্ধার খরচ চাপানো হতে পারে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়ামানাশির গভর্নর কোতারো নাগাসাকি বলেন, আমি সবাইকে ফুজি পাহাড়ে না চড়ার জন্য জোরালো আবেদন জানাচ্ছি। যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কাজে যান, তাদের কথা ভাবুন। এটা সাধারণ মানবিক বিবেচনার বিষয়। দয়া করে উদ্ধারকর্মীদের এবং তাদের পরিবারের উদ্বেগের কথা একটু চিন্তা করুন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে শীতকালে ফুজি পাহাড়ে আরোহণ কতটা কঠিন ও বিপজ্জনক, মানুষ তা নতুন করে ভাববে। প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টারের জ্বালানি খরচের ওপর ভিত্তি করে ফি নির্ধারণের কথা ভাবছে। জাপানের এনএইচকে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত হার হলো হেলিকপ্টার পরিচালনার প্রতি পাঁচ মিনিটে প্রায় ৮ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩৮ পাউন্ড)। উদ্ধারকর্মীদের খরচ ও অন্যান্য ব্যয় ফির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপান টাইমসের তথ্য অনুসারে, বন্ধ মৌসুমে ট্রেইলে প্রবেশ আরও কঠিন করতে ব্যারিকেড ও সেন্সর ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে শীতকালে ফুজিতে আরোহণের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রচারণা চালানো হবে।
ফুজি পাহাড়ে আরোহণের আনুষ্ঠানিক মৌসুম জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময় প্রতিবছর দুই লাখের বেশি পর্বতারোহী চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেন। বছরের বাকি সময় ট্রেইলগুলো বন্ধ থাকে, পাহাড়ি কুটির ও সহায়তা সেবাও অকার্যকর হয়ে পড়ে। তখন আবহাওয়া ও পথের অবস্থা অনেক বেশি প্রতিকূল হয়ে ওঠে।
বন্ধ মৌসুমে একাধিক উদ্ধার অভিযানের পরই বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে শিজুওকা অংশে এক চীনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুইবার উদ্ধার পান। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিগত সাত বছরে ইয়ামানাশি অংশে ২১টি আরোহণজনিত দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























