ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

রাজৈরে হত্যা মামলায় ৩ স‌হোদরের যাবজ্জীবন

মাদারীপুরের রাজৈরে বহুল আলোচিত সেকান্দার হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন ও একজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাহিদুর রহমান নাহিদ এ রায় ঘোষণা করেন। মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এমারত হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাদারীপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বিচারিক কাঠামোর অংশ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী গ্রামের মৃত গফুর হাওলাদারের ছেলে লিটন হাওলাদার (৩০), টিটন হাওলাদার (২৬), বাচ্চু হাওলাদার (৪০) ও আতিয়ার হাওলাদার (৩৫)।

আদালতের রায়ে লিটন, টিটন ও বাচ্চু হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি আতিয়ার হাওলাদারকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সেকেন্দার আলী হাওলাদার ও তাঁর ভাতিজা কামরুল হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেকেন্দার আলী ও কামরুল হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ৬ জুলাই রাজৈর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ১৮৩/১৪ এবং দায়রা নম্বর ১৯৭/১৭। দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে চার আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকউটর (পিপি) এমারত হোসেন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। তিনি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৯৩

রাজৈরে হত্যা মামলায় ৩ স‌হোদরের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৫:০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরের রাজৈরে বহুল আলোচিত সেকান্দার হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন ও একজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে এবং সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাহিদুর রহমান নাহিদ এ রায় ঘোষণা করেন। মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এমারত হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাদারীপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের বিচারিক কাঠামোর অংশ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী গ্রামের মৃত গফুর হাওলাদারের ছেলে লিটন হাওলাদার (৩০), টিটন হাওলাদার (২৬), বাচ্চু হাওলাদার (৪০) ও আতিয়ার হাওলাদার (৩৫)।

আদালতের রায়ে লিটন, টিটন ও বাচ্চু হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি আতিয়ার হাওলাদারকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় রাজৈর উপজেলার বাসাবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সেকেন্দার আলী হাওলাদার ও তাঁর ভাতিজা কামরুল হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেকেন্দার আলী ও কামরুল হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ৬ জুলাই রাজৈর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ১৮৩/১৪ এবং দায়রা নম্বর ১৯৭/১৭। দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে চার আসামির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকউটর (পিপি) এমারত হোসেন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। তিনি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ