পাবনার ফরিদপুরে সাকিব আল হাসান (১৩) নামে এক কিশোরকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি শাহিন আলম ইমনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই ভ্যান এক স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিক্রি করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
পরে ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুর হাসান মাসুদ।
গ্রেপ্তার ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর (আকন্দপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে সে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকত।
আর ভ্যানটি কেনার অভিযোগে আটক মুক্তার হোসেন ধানুয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য।
ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম ও ভ্যান বিক্রির ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ভ্যানটি ১৭ হাজার টাকা বিক্রি করে ৮ হাজার টাকা খরচ করে ফেলে।
এ ঘটনায় ভ্যানটি কেনার অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেন (৪৫) নামের আরো একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি জানান, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রতনপুর গ্রামের হারিজ উদ্দীনের ছেলে সাকিব আল হাসান বাবার ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে ডেমরা বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মাঝামাঝি বড়াল নদীর কিনারায় পানিতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সাকিবের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হারিজ উদ্দীন বাদী হয়ে ফরিদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওসি জানান, মামলার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার দিঘুলিয়া বাজার থেকে শাহিন আলম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানুয়াঘাটা বাজার এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকান থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ওসি আরো জানান, আসামি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে। আইনি পক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় ফরিদপুর থানার ওসি মনজুরুল হাসান মাসুদ ছাড়াও ওসি (তদন্ত) আল হেলাল মাহমুদ, এসআই আরিফুল ইসলাম ও এসআই নূর মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















