ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের সঙ্গে বৈধ শ্রম অভিবাসন বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ফ্রান্সের সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ফ্রান্সের তিন সিনেটরের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সের সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরো গভীর করার আগ্রহের কথা জানান। এ ক্ষেত্রে আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ) কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরো বেশি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। বিশেষ করে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসব খাতে আরো বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও শ্রমিক চলাচলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের আরো সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ। অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করে দুই পক্ষ। বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই গণতান্ত্রিক দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ফ্রান্সের সঙ্গে বৈধ শ্রম অভিবাসন বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৭:৫২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে ফ্রান্সের তিন সিনেটরের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সের সিনেটের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরো গভীর করার আগ্রহের কথা জানান। এ ক্ষেত্রে আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন (আইপিইউ) কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরো বেশি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। বিশেষ করে ওষুধ, চামড়া, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের মতো খাতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসব খাতে আরো বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ফ্রান্সের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও শ্রমিক চলাচলসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মীদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে বৈধ ও নিয়মিত শ্রমিক চলাচলের আরো সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ। অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করে দুই পক্ষ। বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই গণতান্ত্রিক দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ