ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

রাস্তা খুঁড়তেই মিলল ১০ম শতকের দুর্লভ মাটির পাত্র

জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে সড়ক সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে মাটির প্রায় ছয় মিটার নিচে মিলেছে ১০ম শতকের দুর্লভ মাটির পাত্রের ভাণ্ডার। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এগুলো মধ্যযুগের একটি মৃৎশিল্পের কর্মশালার অংশ।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিবিলিসির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রুস্তাভেলি অ্যাভিনিউয়ে চলমান সংস্কারকাজের সময় এই প্রত্নসম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয় চলতি গ্রীষ্মে। পথচারীদের চলাচল সহজ করা, নতুন ক্রসিং তৈরি ও সড়কের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কাজ চলছে।

সংস্কারকাজে শহরের বাসিন্দাদের ভোগান্তি তৈরি হলেও প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে অতীত জানার বিরল সুযোগ।

খননকাজে পাওয়া মৃৎপাত্রের অলংকরণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ১০ম থেকে ১১শ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের।

তখন তিবিলিসি আরব শাসনের অধীনে ছিল এবং সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। শহরের কেন্দ্রস্থলে পাওয়া এই মৃৎপাত্রগুলো তাই তৎকালীন তিবিলিসির অর্থনীতি ও কারুশিল্প সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

জর্জিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়ামের পরিচালক ডেভিড লর্ডকিপানিদজে বলেন, তিবিলিসি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ।

ফলে বিভিন্ন সময়ের মৃৎশিল্পের কর্মশালা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, মধ্যযুগে তিবিলিসি ছিল বহুসাংস্কৃতিক একটি শহর এবং পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃৎপাত্র ও অন্যান্য নিদর্শন ন্যাশনাল মিউজিয়ামে নেওয়া হবে। সেখানে এগুলোর থ্রিডি স্ক্যানিং ও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে নিদর্শনগুলোর বয়স, ব্যবহার ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ইতিহাস অনুযায়ী, তিবিলিসির প্রতিষ্ঠার সময়কাল চতুর্থ শতক পর্যন্ত গড়ায়। মধ্যযুগে শহরটি উমাইয়া খেলাফত, আব্বাসীয় খেলাফত ও সেলজুক সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তী সময়ে মঙ্গোল, পারস্য ও রুশ শাসনের প্রভাবও শহরের স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে পড়েছে।

তিবিলিসির নামের অর্থ ‘উষ্ণ স্থান’। শহরটির চারপাশের পাহাড় থেকে উষ্ণ সালফারযুক্ত পানি প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে এই নামের সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে রুস্তাভেলি অ্যাভিনিউয়ের সংস্কারকাজের কারণে এসব ভূগর্ভস্থ জলধারার কিছু অংশও দৃশ্যমান হয়েছে।

এদিকে সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে শ্রমিকেরা রাতেও কাজ করছেন। তিবিলিসি সিটি কর্তৃপক্ষ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের খননকাজের সময় অ্যাসবেস্টস পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সুন্দরবনে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ল বাঘ, হুইসেল বাজিয়ে ফেরানো হলো বনে

রাস্তা খুঁড়তেই মিলল ১০ম শতকের দুর্লভ মাটির পাত্র

আপডেট সময় ০৫:০৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে সড়ক সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে মাটির প্রায় ছয় মিটার নিচে মিলেছে ১০ম শতকের দুর্লভ মাটির পাত্রের ভাণ্ডার। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, এগুলো মধ্যযুগের একটি মৃৎশিল্পের কর্মশালার অংশ।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিবিলিসির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রুস্তাভেলি অ্যাভিনিউয়ে চলমান সংস্কারকাজের সময় এই প্রত্নসম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয় চলতি গ্রীষ্মে। পথচারীদের চলাচল সহজ করা, নতুন ক্রসিং তৈরি ও সড়কের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কাজ চলছে।

সংস্কারকাজে শহরের বাসিন্দাদের ভোগান্তি তৈরি হলেও প্রত্নতাত্ত্বিকদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে অতীত জানার বিরল সুযোগ।

খননকাজে পাওয়া মৃৎপাত্রের অলংকরণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ১০ম থেকে ১১শ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের।

তখন তিবিলিসি আরব শাসনের অধীনে ছিল এবং সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। শহরের কেন্দ্রস্থলে পাওয়া এই মৃৎপাত্রগুলো তাই তৎকালীন তিবিলিসির অর্থনীতি ও কারুশিল্প সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

জর্জিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়ামের পরিচালক ডেভিড লর্ডকিপানিদজে বলেন, তিবিলিসি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ।

ফলে বিভিন্ন সময়ের মৃৎশিল্পের কর্মশালা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তিনি বলেন, মধ্যযুগে তিবিলিসি ছিল বহুসাংস্কৃতিক একটি শহর এবং পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃৎপাত্র ও অন্যান্য নিদর্শন ন্যাশনাল মিউজিয়ামে নেওয়া হবে। সেখানে এগুলোর থ্রিডি স্ক্যানিং ও বিস্তারিত পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে নিদর্শনগুলোর বয়স, ব্যবহার ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ইতিহাস অনুযায়ী, তিবিলিসির প্রতিষ্ঠার সময়কাল চতুর্থ শতক পর্যন্ত গড়ায়। মধ্যযুগে শহরটি উমাইয়া খেলাফত, আব্বাসীয় খেলাফত ও সেলজুক সাম্রাজ্যসহ বিভিন্ন শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তী সময়ে মঙ্গোল, পারস্য ও রুশ শাসনের প্রভাবও শহরের স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে পড়েছে।

তিবিলিসির নামের অর্থ ‘উষ্ণ স্থান’। শহরটির চারপাশের পাহাড় থেকে উষ্ণ সালফারযুক্ত পানি প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে এই নামের সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে রুস্তাভেলি অ্যাভিনিউয়ের সংস্কারকাজের কারণে এসব ভূগর্ভস্থ জলধারার কিছু অংশও দৃশ্যমান হয়েছে।

এদিকে সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে শ্রমিকেরা রাতেও কাজ করছেন। তিবিলিসি সিটি কর্তৃপক্ষ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের খননকাজের সময় অ্যাসবেস্টস পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ