ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কৃষিমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক Logo ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার Logo পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি পণ্য নিষিদ্ধ করছে ফ্রান্স Logo খাবারের খরচ যুক্ত করেও ২০২৭ সালের হজের খরচ কমাল সরকার : ধর্মমন্ত্রী Logo বছরের সেরা গোলরক্ষকের লড়াইয়ে আবারো মনোনীত এমিলিয়ানো মার্তিনেস Logo বৃহস্পতিবার টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo কালই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন, ফাঁস হলো দাম-ফিচারের তথ্য Logo প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ, যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল Logo জ্বালানি সংকটে সরকার চুপ করে বসে নেই : রিজভী Logo বর্ষসেরা কোচের মনোনয়নে স্প্যানিশদের আধিপত্য, রয়েছে যেসব ক্লাব

শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরে শহীদ পরিবারের মধ্যে কীভাবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে দেশে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতাধীন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এতে আইনগত জটিলতা থাকবে না।

শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া ওই হলফনামায় তার নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার হাতে নগদ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল।

তার নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তবে গাড়িগুলোর মূল্য সেখানে দেখানো হয়নি। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

হলফনামায় শেখ হাসিনার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্যও রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

এছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে শেখ হাসিনার নামে, যার দাম ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। এই জমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কৃষিমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব

আপডেট সময় ০৫:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে দেশে তার নামে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পরে শহীদ পরিবারের মধ্যে কীভাবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যেই আলোচনায় এসেছে দেশে শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সাধারণ আইনের আওতাধীন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ থাকবে। অর্থাৎ আগের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতেই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং এতে আইনগত জটিলতা থাকবে না।

শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেওয়া ওই হলফনামায় তার নামে মোট প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়।

হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার হাতে নগদ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল।

তার নামে উপহার হিসেবে পাওয়া তিনটি মোটরগাড়ির তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তবে গাড়িগুলোর মূল্য সেখানে দেখানো হয়নি। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

হলফনামায় শেখ হাসিনার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্যও রয়েছে। টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে থাকা এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

এছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে একটি প্লট রয়েছে শেখ হাসিনার নামে, যার দাম ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। হলফনামায় শেখ হাসিনা তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক (আংশিক) জমি নিজের নামে দেখিয়েছেন। এই জমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ