সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’
আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সকাল বেলা আমরা উপস্থিত হয়েছি ১১ দলীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক লংমার্চ, এই ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। আমরা ঢাকাবাসী থেকে বিদায় নিতে এসেছি। এই ঐতিহাসিক লংমার্চের জন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আজকে যত বাধা বিপত্তি আসুক না কেন আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল গ্যাস বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।’
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আপনারা দলে দলে এই লংমার্চ অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের নয়। এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের।’
প্রসঙ্গত, লংমার্চটির আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ৭টায়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বহর রওনা হয়।























