ঢাকা ১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ছেলেকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে বাসের চাকায় প্রাণ গেল হিসাবরক্ষকের Logo শাপলা চত্বরে গণহত্যা ঠিকানায় গিয়েও হদিস মেলেনি হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৩০ জনের Logo বিপিএলের ক্ষতি পোষাতে জনপ্রতি ৩০ লাখের প্রস্তাব Logo দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব রটানো হচ্ছে, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী Logo টি-টোয়েন্টি দলে শান্ত, এশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ Logo যুদ্ধের উত্তাপ ছড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে, বেসামরিক হতাহতে উদ্বেগ Logo বাকৃবির আবাসিক হলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ Logo জন্মাষ্টমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় Logo নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কার্যক্রম বন্ধ করল উবার Logo ফুডপ্যান্ডায় ফ্রেশ সুপার মার্টের ২৪৫ পণ্যে মিলবে ৩৪% পর্যন্ত ছাড়

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

গতকাল বুধবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে এসব কথা বলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গোলাগুলি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, বিজিবি বা আর্মি পাঠিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা সাস্টেইনেবল (টেকসই) সমাধান নয়। মানুষের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান ও উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সহিংসতা অটোমেটিক কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, কোনো স্থায়ী পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।

সরকার একটি আইনি, সামাজিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ (সমগ্রতাবাদী পদ্ধতি) নিয়ে এগোচ্ছে।

দুর্গম এলাকায় আলো ছড়াতে ই-লার্নিং ও কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় সমতা আনলে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যকার বৈষম্য ঘুচে যাবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষক যেন পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় তার সুব্যবস্থা করা হবে। স্বাবলম্বী ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত কোনো মানুষ সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজে জড়িত হতে চায় না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্র ও সুশাসনের মূলনীতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠনমূলক সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন, যা গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।

জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। সমাজ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থী সব কর্মকাণ্ড পরিহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে মাদকমুক্ত ও শান্তিময় হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন–রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ জেলা বিএনপি ও সুশীল সমাজের নেতারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ছেলেকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে বাসের চাকায় প্রাণ গেল হিসাবরক্ষকের

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী হেলাল

আপডেট সময় ১১:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, শুধু তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

গতকাল বুধবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত এক বিশেষ সভা শেষে এসব কথা বলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, গোলাগুলি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, বিজিবি বা আর্মি পাঠিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা সাস্টেইনেবল (টেকসই) সমাধান নয়। মানুষের মাঝে আত্মকর্মসংস্থান ও উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সহিংসতা অটোমেটিক কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, কোনো স্থায়ী পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।

সরকার একটি আইনি, সামাজিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ (সমগ্রতাবাদী পদ্ধতি) নিয়ে এগোচ্ছে।

দুর্গম এলাকায় আলো ছড়াতে ই-লার্নিং ও কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় সমতা আনলে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যকার বৈষম্য ঘুচে যাবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষক যেন পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় তার সুব্যবস্থা করা হবে। স্বাবলম্বী ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত কোনো মানুষ সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজে জড়িত হতে চায় না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্র ও সুশাসনের মূলনীতি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠনমূলক সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন, যা গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য।

জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। সমাজ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থী সব কর্মকাণ্ড পরিহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে মাদকমুক্ত ও শান্তিময় হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন–রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ জেলা বিএনপি ও সুশীল সমাজের নেতারা।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ