নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাইড-শেয়ারিং কোম্পানি উবার। নাইজেরিয়ায় চালকদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, বাড়তি পরিচালন ব্যয়, কম ভাড়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোর চাপের মধ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল প্রতিষ্ঠানটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ায় জ্বালানির দাম বাড়লেও অ্যাপভিত্তিক যাত্রীভাড়া তুলনামূলক কম রাখা এবং উবারের কমিশন বেশি হওয়া নিয়ে চালকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব বিষয় নিয়ে চালকেরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিও করেছেন।
উবারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু এই দুই বাজারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আফ্রিকার অন্য দেশগুলোতে কোম্পানিটির কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সাব-সাহারান আফ্রিকার বাজার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখনও আশাবাদী বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
উবারের এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী দারা খোসরুশাহী বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে গত এক বছরে আইভরি কোস্ট ও তানজানিয়া থেকেও ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে উবার। নাইজেরিয়া ও উগান্ডা ছাড়ার পর আফ্রিকায় মিশর, ঘানা, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় কার্যক্রম চালাবে প্রতিষ্ঠানটি।
নাইজেরিয়ায় প্রায় ১২ বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়েছে উবার। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী লাগোসে তীব্র যানজটের কারণে ২০১৯ সালে নৌযানভিত্তিক যাত্রীসেবাও চালু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গত এক দশকে নাইজেরিয়ার রাইড-হেইলিং বাজারে বোল্ট, ইনড্রাইভসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করেছে। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, কম ভাড়া ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চালকদের অসন্তোষের কারণে প্রতিযোগিতামূলক এ বাজারে কোম্পানিগুলোর ওপর চাপও বেড়েছে।
২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ক্ষমতায় আসার পর নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দামে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ায় গাড়িচালকদের পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
অন্যদিকে, উগান্ডার সংবাদপত্র ডেইলি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উবারের প্রস্থান রাজধানী কাম্পালার যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফারাস, বোল্ট ও সেফবোদার মতো অন্যান্য রাইড-হেইলিং প্ল্যাটফর্মগুলো উবারের জায়গা পূরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উবার জানিয়েছে, কার্যক্রম বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী ও চালকদের সহায়তা করা হবে। নাইজেরিয়া ও উগান্ডায় কোম্পানিটির সহায়তা কেন্দ্র আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকবে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বকেয়া ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তিতে সহায়তা করা হবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















