ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৫ মিনিটে যে ভুলগুলো এড়ালে বাঁচতে পারে প্রাণ 

হঠাৎ বুকে চাপ বা তীব্র ব্যথা, সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট কিংবা দুর্বলতা—এমন উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। অনেকেই প্রথমে গ্যাস বা অম্বল ভেবে বাড়িতে বসে থাকেন। অথচ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকে ব্যথা বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রথমেই যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:

গ্যাস ভেবে বসে থাকবেন না

বুকের ব্যথা বা চাপকে শুধু গ্যাস-অম্বল ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বুকের ব্যথার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমি, দুর্বলতা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাবেন না

হার্ট অ্যাটাকের সময় হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যেতে পারে বা রোগী অচেতন হয়ে যেতে পারেন। তাই নিজে গাড়ি চালানোর পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসাসেবা ডেকে হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ। জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসা শুরু করতেও সময় বাঁচতে পারে।

নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করবেন না

বুকে ব্যথা হলে নিজের ইচ্ছায় নানা ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে কোন ওষুধ কার জন্য নিরাপদ, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

তবে আধুনিক প্রাথমিক চিকিৎসা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তীব্র বুকব্যথায় সচেতন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যাঁর অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি নেই এবং চিকিৎসক আগে থেকে এটি না খেতে বলেননি, জরুরি চিকিৎসাসেবা আসার অপেক্ষায় অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খেতে পারেন। এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে না খেয়ে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

যে লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ শুধু বুকের ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বুকের চাপ বা অস্বস্তির সঙ্গে—

বাম হাত, দুই হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়াতে পারে
শ্বাসকষ্ট হতে পারে
ঠান্ডা ঘাম হতে পারে
বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে
মাথা হালকা লাগতে পারে
অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যথা কখন শুরু হয়েছে, সময়টি মনে রাখুন

বুকের ব্যথা বা অন্য উপসর্গ ঠিক কখন শুরু হয়েছে, সময়টি মনে রাখুন। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় এই তথ্য চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রোগীকে কীভাবে রাখবেন?

রোগী সচেতন থাকলে আরামদায়ক অবস্থায় বসিয়ে বা হেলান দিয়ে রাখুন। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে সাধারণত বসে থাকা অবস্থাই বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অযথা হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করানো উচিত নয়।

রোগী অচেতন হলে কী করবেন?

রোগী যদি হঠাৎ অচেতন হয়ে যান এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেন বা শুধু অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেন, সেটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে ধরে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকতে হবে। প্রশিক্ষণ থাকলে বুকের ওপর চাপ দিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র-ফুসফুস পুনরুজ্জীবন পদ্ধতি শুরু করতে হবে এবং সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক হৃদ্‌যন্ত্র পুনরুদ্ধার যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নষ্ট না করা। গ্যাস ভেবে অপেক্ষা করা, নিজে গাড়ি চালানো কিংবা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বদলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম ৫ মিনিটে যে ভুলগুলো এড়ালে বাঁচতে পারে প্রাণ 

আপডেট সময় ০১:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

হঠাৎ বুকে চাপ বা তীব্র ব্যথা, সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট কিংবা দুর্বলতা—এমন উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে। অনেকেই প্রথমে গ্যাস বা অম্বল ভেবে বাড়িতে বসে থাকেন। অথচ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুকে ব্যথা বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রথমেই যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:

গ্যাস ভেবে বসে থাকবেন না

বুকের ব্যথা বা চাপকে শুধু গ্যাস-অম্বল ভেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বুকের ব্যথার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমি, দুর্বলতা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাবেন না

হার্ট অ্যাটাকের সময় হঠাৎ অসুস্থতা বেড়ে যেতে পারে বা রোগী অচেতন হয়ে যেতে পারেন। তাই নিজে গাড়ি চালানোর পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসাসেবা ডেকে হাসপাতালে যাওয়াই নিরাপদ। জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসা শুরু করতেও সময় বাঁচতে পারে।

নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করবেন না

বুকে ব্যথা হলে নিজের ইচ্ছায় নানা ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে কোন ওষুধ কার জন্য নিরাপদ, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

তবে আধুনিক প্রাথমিক চিকিৎসা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তীব্র বুকব্যথায় সচেতন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি, যাঁর অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি নেই এবং চিকিৎসক আগে থেকে এটি না খেতে বলেননি, জরুরি চিকিৎসাসেবা আসার অপেক্ষায় অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খেতে পারেন। এ বিষয়ে সন্দেহ থাকলে না খেয়ে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

যে লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত সতর্ক হবেন

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ শুধু বুকের ব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বুকের চাপ বা অস্বস্তির সঙ্গে—

বাম হাত, দুই হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা ছড়াতে পারে
শ্বাসকষ্ট হতে পারে
ঠান্ডা ঘাম হতে পারে
বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে
মাথা হালকা লাগতে পারে
অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যথা কখন শুরু হয়েছে, সময়টি মনে রাখুন

বুকের ব্যথা বা অন্য উপসর্গ ঠিক কখন শুরু হয়েছে, সময়টি মনে রাখুন। হাসপাতালে চিকিৎসার সময় এই তথ্য চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রোগীকে কীভাবে রাখবেন?

রোগী সচেতন থাকলে আরামদায়ক অবস্থায় বসিয়ে বা হেলান দিয়ে রাখুন। শ্বাস নিতে কষ্ট হলে সাধারণত বসে থাকা অবস্থাই বেশি আরামদায়ক হতে পারে। অযথা হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করানো উচিত নয়।

রোগী অচেতন হলে কী করবেন?

রোগী যদি হঠাৎ অচেতন হয়ে যান এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেন বা শুধু অস্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেন, সেটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে ধরে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা ডাকতে হবে। প্রশিক্ষণ থাকলে বুকের ওপর চাপ দিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র-ফুসফুস পুনরুজ্জীবন পদ্ধতি শুরু করতে হবে এবং সম্ভব হলে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক হৃদ্‌যন্ত্র পুনরুদ্ধার যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নষ্ট না করা। গ্যাস ভেবে অপেক্ষা করা, নিজে গাড়ি চালানো কিংবা অপ্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বদলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস