ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, আলুর দম কিংবা আলুর পরোটা—আলুর তৈরি নানা পদই অনেকের পছন্দ। তবে আলু খাওয়ার পর কারও কারও পেটে অস্বস্তি, ফাঁপাভাব বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাহলে কি বেশি আলু খেলেই গ্যাস হয়?
আসলে এর উত্তর সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু সাধারণত গ্যাস তৈরির প্রধান খাবারগুলোর মধ্যে পড়ে না। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বা নির্দিষ্টভাবে রান্না করা হলে কারও কারও পেটে ফাঁপাভাব, পেট ভরা লাগা কিংবা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। ব্যক্তিভেদে হজম ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় একই খাবারের প্রভাবও সবার শরীরে এক রকম হয় না।
কেন আলু খেলে কারও কারও সমস্যা হয়?
আলু মূলত শ্বেতসার বা মাড়জাতীয় খাবার। এর বেশির ভাগ অংশ ক্ষুদ্রান্ত্রে হজম হয়ে যায়। তবে কিছু শ্বেতসার হজম না হয়ে বৃহদান্ত্রে পৌঁছাতে পারে। সেখানে থাকা জীবাণু তা গাঁজনের মাধ্যমে ভাঙে। এই প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন, মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস তৈরি হয়। বেশি গাঁজন হলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি ও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।
তবে শুধু আলুকেই এর জন্য দায়ী করা ঠিক নয়। একজনের যে খাবারে সমস্যা হচ্ছে, অন্যজনের ক্ষেত্রে সেই একই খাবার হয়তো কোনো সমস্যাই তৈরি করছে না। খাবারের পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং ব্যক্তির হজম ক্ষমতাও এর সঙ্গে জড়িত।
ভাজা আলুতে সমস্যা বাড়তে পারে
সেদ্ধ আলুর তুলনায় ভাজা আলু, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিপস খেলে কারও কারও অস্বস্তি বেশি হতে পারে। কারণ এসব খাবারে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা বা ফাঁপা মনে হতে পারে।
আবার আলুর সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ডাল, মটরশুঁটি, ছোলা বা অন্য কোনো গ্যাস তৈরি করতে পারে এমন খাবারের সঙ্গে আলু খেলে পেটের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে।
আলু ছাড়াও যেসব খাবারে গ্যাস হতে পারে
শুধু আলু নয়, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, ফুলকপি, ব্রোকলি ও বাঁধাকপির মতো খাবারও অনেকের পেটে গ্যাস তৈরি করতে পারে। এসব খাবারের কিছু জটিল শর্করা ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না। পরে তা বৃহদান্ত্রে গিয়ে জীবাণুর মাধ্যমে ভাঙার সময় গ্যাস তৈরি হতে পারে।
দুধ, আইসক্রিম, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবারেও কারও কারও সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের দুধের শর্করা হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা এমনকি পাতলা পায়খানাও হতে পারে।
এ ছাড়া চিনি ছাড়া চুইংগাম ও মিষ্টিতে ব্যবহৃত কিছু চিনির বিকল্পও অতিরিক্ত গ্যাস ও পেট ফাঁপা তৈরি করতে পারে। কোমল পানীয় ও অন্যান্য গ্যাসযুক্ত পানীয় বেশি খেলেও পেটে গ্যাস জমা, ঢেকুর ও পেট ভরা ভরা ভাব হতে পারে।
হজমের সমস্যা কমাবেন কীভাবে?
পেটে গ্যাস বা ফাঁপাভাব এড়াতে সবচেয়ে আগে খাওয়ার অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া দরকার। তাড়াহুড়ো করে খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। কোন খাবার খেলে সমস্যা হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করা জরুরি।
আলু খাওয়ার পর বারবার সমস্যা হলে পরিমাণ কমিয়ে দেখতে পারেন। রান্নার ধরনেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। একই সঙ্গে আলুর সঙ্গে অন্য কোন খাবার খেলে সমস্যা বাড়ছে কি না, সেটিও লক্ষ্য করা দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য একই খাবার গ্যাসের কারণ হয় না। তাই নিজের শরীর কোন খাবার কীভাবে গ্রহণ করছে, সেটি বোঝাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পেটে গ্যাস বা ফাঁপাভাবের সঙ্গে যদি ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা, মলে রক্ত, অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য বা বারবার বমির মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস




























