ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

নেপালে বন্যায় নিহত দেড়শ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪ শতাধিক

হিমালয়ের দেশ নেপালের তিব্বত সীমান্তে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জন। এখনো নিখোঁজ বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক পর্যটক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে মৃতের এ সংখ্যা জানিয়েছে বিবিসি।

সর্বশেষ তথ্যে নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার পর দেশটিতে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত, আহত ও নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযানে নেমেছে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে ১৫টি হেলিকপ্টারও।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তারা মোট ৩৪১ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক রয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, ওই অঞ্চলে থাকা ভ্রমণকারীদের ‘অবস্থান ও নিরাপত্তার অবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চালানো হচ্ছে’।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয় এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এ ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি চীনও ‘ব্যাপক ক্ষতির’ মুখে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ।

এছাড়া সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে মাধ্যমিক দুর্যোগ এড়াতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আগাম সতর্ক বার্তা চালুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

চীনা সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর জন্য উদ্ধারকারী দলকে তিব্বতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি চীন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) : সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ যিনি

নেপালে বন্যায় নিহত দেড়শ ছাড়াল, নিখোঁজ ৪ শতাধিক

আপডেট সময় ০১:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

হিমালয়ের দেশ নেপালের তিব্বত সীমান্তে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জন। এখনো নিখোঁজ বিভিন্ন দেশের চার শতাধিক পর্যটক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে মৃতের এ সংখ্যা জানিয়েছে বিবিসি।

সর্বশেষ তথ্যে নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার পর দেশটিতে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত, আহত ও নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযানে নেমেছে নেপালের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে ১৫টি হেলিকপ্টারও।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, তারা মোট ৩৪১ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক রয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, ওই অঞ্চলে থাকা ভ্রমণকারীদের ‘অবস্থান ও নিরাপত্তার অবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চালানো হচ্ছে’।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয় এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এ ঘটনায় নেপালের পাশাপাশি চীনও ‘ব্যাপক ক্ষতির’ মুখে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, নয়জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ।

এছাড়া সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে মাধ্যমিক দুর্যোগ এড়াতে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আগাম সতর্ক বার্তা চালুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

চীনা সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর জন্য উদ্ধারকারী দলকে তিব্বতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি চীন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস