ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়লার গাড়িতে কবরস্থানে নেওয়া হয় মরদেহ, গোসল-জানাযা ছাড়াই করা হয় দাফন

ফেনীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের একমাত্র স্থান ফেনী পৌর কবরস্থান। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পৌরসভার ময়লার গাড়িতে করে কবরস্থানে নিয়ে গোসল-জানাযা ছাড়াই দাফন করা অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অজ্ঞাত মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় পৌর কবরস্থানে। মরদেহ বহনের উপযুক্ত যানবাহনের পরিবর্তে মরদেহ নেওয়া হয় পৌরসভার ময়লার গাড়িতে। এরপর গোসল-জানাযা ছাড়াই দাফর করা হয়।

এ ছাড়া ৫-৬ মাসের ব্যবধানে এক কবরে দাফন হয়েছে কয়েকজনের মরদেহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় পুরো এলাকাজুড়ে নেই সীমানা প্রাচীর। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। কবরস্থানের ভেতরে গরু ও ছাগলের অবাধ বিচরণ।

সন্ধ্যার পর অনেকটা অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে দিন-রাত কবরস্থানে বসে মাদকসেবী ও তাসের আড্ডা বসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সুলতান পুরো এলাকায় ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক সরকারি এই কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ করেন। নাম দেওয়া হয় মুসলিম কবরগাহ। সে থেকে গত ৬০ বছরে এখানে হাজার হাজার পরিচিত-অপরিচিত মানুষের মরদেহের স্থান হয়েছে।

বিশেষ করে ফেনীর উপর দিয়ে রেল, সড়ক, মহাসড়ক বয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত বেওয়ারিশ মরদেহের ঠিকানা এখানে । প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে দাফন করা হয় এই কবরস্থানে। ফেনী শহরতলীর সুলতানপুরে অবস্থিত এই পৌর কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। সঠিকভাবে দাফন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, অজ্ঞাত মরদেহ পরিবহনে ময়লার গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত একটি আলাদা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গোসল ও জানাজার মতো ধর্মীয় ও মানবিক আনুষ্ঠানিকতাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

এদিকে কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের সামর্থ্য যেটুকু সেটুকুর আলোকে তারা কাজ করছেন। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয় মানুষকে দাফন করা হয় এই গোরস্থানে। কবরস্থানটিকে আরো উন্নত করার জন্যও তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, ময়লার গাড়িতে একটি বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ময়লার গাড়িতে কবরস্থানে নেওয়া হয় মরদেহ, গোসল-জানাযা ছাড়াই করা হয় দাফন

আপডেট সময় ১২:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ফেনীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের একমাত্র স্থান ফেনী পৌর কবরস্থান। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পৌরসভার ময়লার গাড়িতে করে কবরস্থানে নিয়ে গোসল-জানাযা ছাড়াই দাফন করা অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অজ্ঞাত মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় পৌর কবরস্থানে। মরদেহ বহনের উপযুক্ত যানবাহনের পরিবর্তে মরদেহ নেওয়া হয় পৌরসভার ময়লার গাড়িতে। এরপর গোসল-জানাযা ছাড়াই দাফর করা হয়।

এ ছাড়া ৫-৬ মাসের ব্যবধানে এক কবরে দাফন হয়েছে কয়েকজনের মরদেহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় পুরো এলাকাজুড়ে নেই সীমানা প্রাচীর। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। কবরস্থানের ভেতরে গরু ও ছাগলের অবাধ বিচরণ।

সন্ধ্যার পর অনেকটা অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে দিন-রাত কবরস্থানে বসে মাদকসেবী ও তাসের আড্ডা বসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সুলতান পুরো এলাকায় ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক সরকারি এই কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ করেন। নাম দেওয়া হয় মুসলিম কবরগাহ। সে থেকে গত ৬০ বছরে এখানে হাজার হাজার পরিচিত-অপরিচিত মানুষের মরদেহের স্থান হয়েছে।

বিশেষ করে ফেনীর উপর দিয়ে রেল, সড়ক, মহাসড়ক বয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায় নিহত বেওয়ারিশ মরদেহের ঠিকানা এখানে । প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে দাফন করা হয় এই কবরস্থানে। ফেনী শহরতলীর সুলতানপুরে অবস্থিত এই পৌর কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। সঠিকভাবে দাফন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, অজ্ঞাত মরদেহ পরিবহনে ময়লার গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত একটি আলাদা ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গোসল ও জানাজার মতো ধর্মীয় ও মানবিক আনুষ্ঠানিকতাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

এদিকে কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের সামর্থ্য যেটুকু সেটুকুর আলোকে তারা কাজ করছেন। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয় মানুষকে দাফন করা হয় এই গোরস্থানে। কবরস্থানটিকে আরো উন্নত করার জন্যও তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, ময়লার গাড়িতে একটি বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ