ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক, মতলবে বছরে ৪ শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার Logo ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকা চান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার খেয়ে ৭ জন অসুস্থ, রাতে গ্রিল কেটে বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo নিজেদের মাঠেই দুয়ো শুনে সোজা ড্রেসিংরুমে আলভারেজ Logo সিলেটে নিজ বাসার সামনে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা Logo বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় বাগেরহাটের সাবেক এমপি মিলন গ্রেপ্তার Logo তেহরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটবে? Logo মৃত্যুর পর ভিক্ষুকের বাড়ি-ব্যাংকে মিলল ১০ লাখ টাকা Logo জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ভারত Logo সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: সাংবাদিক দেবাশীষকে ছেলেসহ সৎকার, স্ত্রী-শ্বশুরকে দাফন

ভারতের কলকাতা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের সৎকার এবং দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ ও তার শিশুপুত্র শর্নশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মের রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়।

অন্যদিকে রাত আড়াইটায় নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পৌর কবরস্থানে সমাহিত করা হয় দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ।

স্থানীয় সাংবাদিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে বেনাপোল স্থলবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া থেকে যাওয়া তার সতীর্থ সাংবাদিকরা।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্সে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের ভাড়া বাড়িতে এসে পৌঁছায়। সন্ধ্যার আগে থেকেই হাজারো মানুষ ওই বাড়িসহ আশেপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জনতা একনজর দেখতে একসঙ্গে ভিড় জমান।

এসময় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাড়ির অদূরে তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে রাখা হয়। এখানেও ভিড় করেন হাজারো জনতা।

রাত পৌনে ১টার দিকে ভিড় কমলে মরদেহগুলো পুনরায় দেবাশীষের বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। একসময় পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলোর সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভাই চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি সতীর্থ সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনতা।

একসময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখান থেকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ শহরের কুঠিপাড়ায় মডেল মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার সাড়ে তিন বছরের শিশু পুত্র শর্ণশীষ দত্তকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়। এসময় তার স্বজন, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার উদ্দেশে দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতা যান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্ত্রী, শিশু পুত্র ও শ্বশুরকে নিয়ে উড়োজাহাজে করে তামিলনাড়ু রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানকার নারায়ানান হাসপাতালে স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে করে কলকাতায় ফেরেন তারা।

কথা ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য একটু কেনাকাটা করে পরদিন সকালে তারা বাড়ি ফিরবেন। রাত্রিযাপনের জন্য তারা কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন।

সারাদিন স্ত্রী সন্তান বাবা-মার জন্য কেনাকাটাও করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান তারা চারজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক, মতলবে বছরে ৪ শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত: সাংবাদিক দেবাশীষকে ছেলেসহ সৎকার, স্ত্রী-শ্বশুরকে দাফন

আপডেট সময় ১১:৪২:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের সৎকার এবং দুজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সাংবাদিক দেবাশীষ ও তার শিশুপুত্র শর্নশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে সনাতন ধর্মের রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়।

অন্যদিকে রাত আড়াইটায় নামাজে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পৌর কবরস্থানে সমাহিত করা হয় দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ।

স্থানীয় সাংবাদিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে বেনাপোল স্থলবন্দরে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া থেকে যাওয়া তার সতীর্থ সাংবাদিকরা।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্সে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের ভাড়া বাড়িতে এসে পৌঁছায়। সন্ধ্যার আগে থেকেই হাজারো মানুষ ওই বাড়িসহ আশেপাশের রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে জনতা একনজর দেখতে একসঙ্গে ভিড় জমান।

এসময় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাড়ির অদূরে তরুণ সংঘ ক্লাব মাঠে রাখা হয়। এখানেও ভিড় করেন হাজারো জনতা।

রাত পৌনে ১টার দিকে ভিড় কমলে মরদেহগুলো পুনরায় দেবাশীষের বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। একসময় পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নিথর দেহগুলোর সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আহাজারিতে আশপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ভাই চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি সতীর্থ সংবাদকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনতা।

একসময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখান থেকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহ শহরের কুঠিপাড়ায় মডেল মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাত পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় মহাশ্মশানে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার সাড়ে তিন বছরের শিশু পুত্র শর্ণশীষ দত্তকে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সমাধিস্থ করা হয়। এসময় তার স্বজন, সহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার উদ্দেশে দর্শনা-গেদে চেকপোস্ট দিয়ে কলকাতা যান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় স্ত্রী, শিশু পুত্র ও শ্বশুরকে নিয়ে উড়োজাহাজে করে তামিলনাড়ু রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানকার নারায়ানান হাসপাতালে স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে গত মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে করে কলকাতায় ফেরেন তারা।

কথা ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য একটু কেনাকাটা করে পরদিন সকালে তারা বাড়ি ফিরবেন। রাত্রিযাপনের জন্য তারা কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন।

সারাদিন স্ত্রী সন্তান বাবা-মার জন্য কেনাকাটাও করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান তারা চারজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ