ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তেল রপ্তানি হতে দেবে না ইরান Logo প্রতি ১০ কিলোমিটারে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা হবে : সড়কমন্ত্রী Logo ফরম পূরণে প্রতারণার পর বিশেষ ব্যবস্থায় ৮ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু Logo নুসরাত হত্যা মামলা: ‘ঢালাও’ ফাঁসি দেওয়া সেই বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ Logo ৩ বছরে ৩০ বছরের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে ইসরায়েল Logo অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করাও বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন Logo ফরিদপুরে ২০ লিটার দেশীয় মদসহ যুবক গ্রেপ্তার Logo ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে যা বললেন সিইসি Logo জুলাইয়ে ভ্যানচালক হত্যাচেষ্টা মামলায় নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেপ্তার Logo দলের নাম ভাঙিয়ে চলা লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক, মতলবে বছরে ৪ শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার

বর্ষা এলেই সাপের উপদ্রব বেড়ে যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। স্থানীয় হাসপাতাল, জনপ্রতিনিধি ও আশপাশের চারটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকেই স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চার লাখের বেশি জনসংখ্যার এ উপজেলায় অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। পাশাপাশি ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, প্রকল্পের রাস্তার দুই পাশে ঝোপঝাড় এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার কারণে সাপের উপদ্রব বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চিকিৎসক ও বাসিন্দারা।

তবে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে ২০ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা পার্শ্ববর্তী চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এসব হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে আরও ১৪ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে যান। সেই হিসাবে বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সাপে কাটা রোগীরা পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে যান। ফতেপুর পশ্চিম, ফতেপুর পূর্ব ও সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আংশিক এলাকার রোগীরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ফরাজীকান্দি, জহিরাবাদ ও এখলাছপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকার রোগীরা চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে যান। আর বাগানবাড়ী ইউনিয়নের সাপে কাটা রোগীরা চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও চিকিৎসকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় সাপ বিভিন্ন গর্ত ও আবাসস্থল থেকে বেরিয়ে আসে। রাস্তা-ঘাটের ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে মানুষের চলাচল এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ সময় সাপের বিচরণ বেড়ে যায়।

চলতি বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটায় পানি জমে থাকায় সাপের উপদ্রব আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে জুন, জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। কারণ, এ সময়ে সাপ প্রজনন ও শিকারের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, বিষধর সাপে কামড় দিলে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কখনো কখনো দুই থেকে তিন ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের অনুমতি থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে গেলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা জীবনঘাতী হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে এই উপজেলায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তেল রপ্তানি হতে দেবে না ইরান

বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক, মতলবে বছরে ৪ শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার

আপডেট সময় ০১:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষা এলেই সাপের উপদ্রব বেড়ে যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। স্থানীয় হাসপাতাল, জনপ্রতিনিধি ও আশপাশের চারটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকেই স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চার লাখের বেশি জনসংখ্যার এ উপজেলায় অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। পাশাপাশি ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, প্রকল্পের রাস্তার দুই পাশে ঝোপঝাড় এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার কারণে সাপের উপদ্রব বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চিকিৎসক ও বাসিন্দারা।

তবে বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে ২০ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা পার্শ্ববর্তী চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এসব হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে আরও ১৪ জনের বেশি সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিতে যান। সেই হিসাবে বছরে চার শতাধিক মানুষ সাপে কাটার শিকার হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের সাপে কাটা রোগীরা পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে যান। ফতেপুর পশ্চিম, ফতেপুর পূর্ব ও সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আংশিক এলাকার রোগীরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ফরাজীকান্দি, জহিরাবাদ ও এখলাছপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকার রোগীরা চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে যান। আর বাগানবাড়ী ইউনিয়নের সাপে কাটা রোগীরা চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও চিকিৎসকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় সাপ বিভিন্ন গর্ত ও আবাসস্থল থেকে বেরিয়ে আসে। রাস্তা-ঘাটের ঝোপঝাড়, জলাবদ্ধতা, কৃষিজমিতে মানুষের চলাচল এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে এ সময় সাপের বিচরণ বেড়ে যায়।

চলতি বর্ষায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটায় পানি জমে থাকায় সাপের উপদ্রব আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও ভ্যাকসিন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে জুন, জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। কারণ, এ সময়ে সাপ প্রজনন ও শিকারের জন্য সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।

চিকিৎসকদের মতে, বিষধর সাপে কামড় দিলে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কখনো কখনো দুই থেকে তিন ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের অনুমতি থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছে।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ওঝা বা কবিরাজের কাছে গেলে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা জীবনঘাতী হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুইজন রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে এই উপজেলায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ