ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বয়স বাড়লেও শরীর শক্তিশালী রাখতে নারীদের যে ৩ অভ্যাস জরুরি

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজনের তুলনায় শক্তি ধরে রাখা বা বাড়ানো জরুরি। বাড়তি মেদ কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়াতে পারলে শরীরকে আরও সচল ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব। এ জন্য তিনটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে। ধীরে ধীরে পেশির শক্তি কমে, শরীরে বাড়তি মেদ জমতে পারে এবং আগের মতো চটপটে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধু ওজন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে শরীরের ওজনের তুলনায় শক্তি কতটা রয়েছে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

শক্তি ও ওজনের অনুপাত কী?

সহজভাবে বললে, নিজের ওজনের তুলনায় শরীর কতটা শক্তিশালী, সেটিই শক্তি ও ওজনের অনুপাত। শরীরের ওজন কম হলেই যে শক্তি বেশি হবে, এমন নয়। বরং বাড়তি মেদ কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়ানোই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টিবিদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের এই অনুপাত ধরে রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। এতে শরীর হালকা, চটপটে ও সচল রাখা সহজ হয়।

যোগাসনে বাড়বে শরীরের সক্ষমতা

পুষ্টিবিদের পরামর্শ, যেসব যোগাসন (যোগব্যায়াম) কঠিন মনে হয়, সেগুলো ধীরে ধীরে শেখা যেতে পারে। শীর্ষাসন, সর্বাঙ্গাসন ও হলাসনের মতো যোগাসন শরীরের ভারসাম্য ও সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এসব আসনে শরীরের বিভিন্ন অংশের ওপর নিজের শরীরের ভার বহনের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত অনুশীলনে শরীরের নিচের অংশের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এগুলো ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কঠিন যোগাসন করার আগে সঠিক পদ্ধতি শেখা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শক্তিবর্ধক ব্যায়ামেও গুরুত্ব

শরীরের পেশির শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বসে ওঠার ব্যায়াম, ভার তোলার ব্যায়াম, হাতে ভার নিয়ে চাপ দেওয়ার ব্যায়ামসহ বিভিন্ন অনুশীলন।

এসব ব্যায়াম শরীরের বিভিন্ন পেশিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শরীরের ওজন ও শক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সহজ হয়।

নিজের জন্যও সময় রাখতে হবে

শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভালো থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদের মতে, শুধু বাইরের সম্পর্ক ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তৈরি করা দরকার।

নিজের পছন্দের কাজ করা, শখ পূরণ করা, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর মন ভালো থাকলে শরীরের ওপরও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে শুধু ওজন কমানোর চিন্তা না করে শরীরের শক্তি, পেশি, মানসিক সুস্থতা ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান কত হওয়া উচিত?

বয়স বাড়লেও শরীর শক্তিশালী রাখতে নারীদের যে ৩ অভ্যাস জরুরি

আপডেট সময় ১২:২৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজনের তুলনায় শক্তি ধরে রাখা বা বাড়ানো জরুরি। বাড়তি মেদ কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়াতে পারলে শরীরকে আরও সচল ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব। এ জন্য তিনটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে। ধীরে ধীরে পেশির শক্তি কমে, শরীরে বাড়তি মেদ জমতে পারে এবং আগের মতো চটপটে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুধু ওজন কমানোর দিকে নজর না দিয়ে শরীরের ওজনের তুলনায় শক্তি কতটা রয়েছে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

শক্তি ও ওজনের অনুপাত কী?

সহজভাবে বললে, নিজের ওজনের তুলনায় শরীর কতটা শক্তিশালী, সেটিই শক্তি ও ওজনের অনুপাত। শরীরের ওজন কম হলেই যে শক্তি বেশি হবে, এমন নয়। বরং বাড়তি মেদ কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়ানোই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টিবিদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের এই অনুপাত ধরে রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। এতে শরীর হালকা, চটপটে ও সচল রাখা সহজ হয়।

যোগাসনে বাড়বে শরীরের সক্ষমতা

পুষ্টিবিদের পরামর্শ, যেসব যোগাসন (যোগব্যায়াম) কঠিন মনে হয়, সেগুলো ধীরে ধীরে শেখা যেতে পারে। শীর্ষাসন, সর্বাঙ্গাসন ও হলাসনের মতো যোগাসন শরীরের ভারসাম্য ও সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এসব আসনে শরীরের বিভিন্ন অংশের ওপর নিজের শরীরের ভার বহনের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত অনুশীলনে শরীরের নিচের অংশের সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এগুলো ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কঠিন যোগাসন করার আগে সঠিক পদ্ধতি শেখা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শক্তিবর্ধক ব্যায়ামেও গুরুত্ব

শরীরের পেশির শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বসে ওঠার ব্যায়াম, ভার তোলার ব্যায়াম, হাতে ভার নিয়ে চাপ দেওয়ার ব্যায়ামসহ বিভিন্ন অনুশীলন।

এসব ব্যায়াম শরীরের বিভিন্ন পেশিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শরীরের ওজন ও শক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা সহজ হয়।

নিজের জন্যও সময় রাখতে হবে

শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভালো থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদের মতে, শুধু বাইরের সম্পর্ক ও দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তৈরি করা দরকার।

নিজের পছন্দের কাজ করা, শখ পূরণ করা, নতুন কিছু শেখা কিংবা নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর মন ভালো থাকলে শরীরের ওপরও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে শুধু ওজন কমানোর চিন্তা না করে শরীরের শক্তি, পেশি, মানসিক সুস্থতা ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস