ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ফোনে পানি ঢুকলে যে ৪টি কাজ ভুলেও করবেন না

বর্ষাকালে ফোন ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কখনও ছাতা থেকে পানি টপকে পড়ে, কখনও রাস্তায় পড়ে গেলে বা পকেট ভিজে যাওয়ার কারণে ফোনের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। ফোনে পানি লাগলেই স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়। আর তখন অনেকেই তাড়াহুড়া করে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন, যার ফলে ফোন চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আপনার মোবাইলে পানি ঢুকে গেলে নিচে বলা চারটি ভুল কখনও করবেন না। সঠিকভাবে সামলাতে পারলে ফোন বাঁচানো সম্ভব।

প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল হল ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে চালু করা। ফোনে পানি লাগার পর অনেকেই স্ক্রিন চেক করতে বা কোনও কল এসেছে কি না দেখতে পাওয়ার বাটন চাপ দেন। এমনটা একেবারেই করা উচিত নয়।

পানি ও বিদ্যুতের সংস্পর্শে শর্ট সার্কিট হতে পারে। এর ফলে মাদারবোর্ড, প্রসেসর বা ব্যাটারি পুড়ে যেতে পারে। ফোনটি যদি আগে থেকেই চালু থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিন এবং ফের চালু করার চেষ্টা করবেন না। ফোন পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সেটি বন্ধই রাখুন।

দ্বিতীয় বড় ভুল হল ভেজা ফোনে চার্জার লাগানো। অনেকেই মনে করেন, চার্জে বসালে ফোন ঠিক হয়ে যাবে বা ব্যাটারি পরীক্ষা করা যাবে। এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। ফোনের ভেতরে পানি থাকলে কারেন্ট ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকী ব্যাটারিতে আগুন লাগার আশঙ্কাও থাকে। ফোনে পানি লাগলে অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চার্জ দেবেন না। ফোন সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর এবং পরীক্ষা করানোর পরই চার্জার লাগান।

তৃতীয় ভুল হল গরম বাতাস বা অতিরিক্ত তাপ দিয়ে ফোন শুকানো। অনেকে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন, হিটারের কাছে রাখেন বা রোদে ফেলে রাখেন। কেউ কেউ আবার ফোন মাইক্রোওয়েভ ওভেনেও দিয়ে দেন। গরম বাতাস পানিকে ফোনের আরও ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত তাপে সার্কিট বোর্ডে জং ধরার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে এবং প্লাস্টিকের অংশ গলে যেতে পারে। তাই ফোনে কখনও সরাসরি তাপ দেবেন না। সাধারণ ঘরের বাতাসেই ফোন শুকাতে দিন।

চতুর্থ সাধারণ ভুল হল ফোন জোরে ঝাঁকানো বা চালের মধ্যে রেখে দেওয়া। ফোনের ভেতরের পানি বের করার জন্য অনেকে সেটি জোরে ঝাঁকান। এর ফলে পানি আরও গভীর জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। চালের মধ্যে ফোন রেখে দেওয়ার পদ্ধতিও বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়।

চাল পানি শোষণ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু চালের ছোট দানা ফোনের চার্জিং পোর্ট বা স্পিকারের ভিতরে আটকে যেতে পারে। পরে সেখান থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই চালের পরিবর্তে আরও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

এই টিপসগুলো কাজে আসবে: সঠিক পদ্ধতি হল, ফোনে পানি লাগার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বন্ধ করে দিন। সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড এবং কভার খুলে ফেলুন। পরিষ্কার ও শুকনা কাপড় দিয়ে ফোনের বাইরের পানি মুছে ফেলুন। এরপর ফোনটি খোলা জায়গায় রাখুন। পাখার হালকা বাতাস লাগাতে পারেন, তবে গরম বাতাস ব্যবহার করবেন না।

ফোনের ভেতরে যদি অনেকটা পানি ঢুকে যায়, তাহলে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে পেশাদার পদ্ধতিতে ফোন শুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। বর্ষাকালে ফোনকে ওয়াটারপ্রুফ কভার বা পলিথিন পাউচের মধ্যে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। পকেটে রাখার সময়ও সতর্ক থাকুন। ফোনে পানি লেগে গেলেও আতঙ্কিত হবেন না এবং উপরে উল্লিখিত ভুলগুলো একেবারেই করবেন না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ফোনে পানি ঢুকলে যে ৪টি কাজ ভুলেও করবেন না

আপডেট সময় ০৪:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষাকালে ফোন ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কখনও ছাতা থেকে পানি টপকে পড়ে, কখনও রাস্তায় পড়ে গেলে বা পকেট ভিজে যাওয়ার কারণে ফোনের ভেতরে পানি ঢুকে যায়। ফোনে পানি লাগলেই স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়। আর তখন অনেকেই তাড়াহুড়া করে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন, যার ফলে ফোন চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আপনার মোবাইলে পানি ঢুকে গেলে নিচে বলা চারটি ভুল কখনও করবেন না। সঠিকভাবে সামলাতে পারলে ফোন বাঁচানো সম্ভব।

প্রথম এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল হল ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে চালু করা। ফোনে পানি লাগার পর অনেকেই স্ক্রিন চেক করতে বা কোনও কল এসেছে কি না দেখতে পাওয়ার বাটন চাপ দেন। এমনটা একেবারেই করা উচিত নয়।

পানি ও বিদ্যুতের সংস্পর্শে শর্ট সার্কিট হতে পারে। এর ফলে মাদারবোর্ড, প্রসেসর বা ব্যাটারি পুড়ে যেতে পারে। ফোনটি যদি আগে থেকেই চালু থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিন এবং ফের চালু করার চেষ্টা করবেন না। ফোন পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সেটি বন্ধই রাখুন।

দ্বিতীয় বড় ভুল হল ভেজা ফোনে চার্জার লাগানো। অনেকেই মনে করেন, চার্জে বসালে ফোন ঠিক হয়ে যাবে বা ব্যাটারি পরীক্ষা করা যাবে। এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। ফোনের ভেতরে পানি থাকলে কারেন্ট ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকী ব্যাটারিতে আগুন লাগার আশঙ্কাও থাকে। ফোনে পানি লাগলে অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা চার্জ দেবেন না। ফোন সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর এবং পরীক্ষা করানোর পরই চার্জার লাগান।

তৃতীয় ভুল হল গরম বাতাস বা অতিরিক্ত তাপ দিয়ে ফোন শুকানো। অনেকে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন, হিটারের কাছে রাখেন বা রোদে ফেলে রাখেন। কেউ কেউ আবার ফোন মাইক্রোওয়েভ ওভেনেও দিয়ে দেন। গরম বাতাস পানিকে ফোনের আরও ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত তাপে সার্কিট বোর্ডে জং ধরার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে এবং প্লাস্টিকের অংশ গলে যেতে পারে। তাই ফোনে কখনও সরাসরি তাপ দেবেন না। সাধারণ ঘরের বাতাসেই ফোন শুকাতে দিন।

চতুর্থ সাধারণ ভুল হল ফোন জোরে ঝাঁকানো বা চালের মধ্যে রেখে দেওয়া। ফোনের ভেতরের পানি বের করার জন্য অনেকে সেটি জোরে ঝাঁকান। এর ফলে পানি আরও গভীর জায়গায় পৌঁছে যেতে পারে। চালের মধ্যে ফোন রেখে দেওয়ার পদ্ধতিও বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়।

চাল পানি শোষণ করতে পারে ঠিকই, কিন্তু চালের ছোট দানা ফোনের চার্জিং পোর্ট বা স্পিকারের ভিতরে আটকে যেতে পারে। পরে সেখান থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই চালের পরিবর্তে আরও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

এই টিপসগুলো কাজে আসবে: সঠিক পদ্ধতি হল, ফোনে পানি লাগার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বন্ধ করে দিন। সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড এবং কভার খুলে ফেলুন। পরিষ্কার ও শুকনা কাপড় দিয়ে ফোনের বাইরের পানি মুছে ফেলুন। এরপর ফোনটি খোলা জায়গায় রাখুন। পাখার হালকা বাতাস লাগাতে পারেন, তবে গরম বাতাস ব্যবহার করবেন না।

ফোনের ভেতরে যদি অনেকটা পানি ঢুকে যায়, তাহলে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে পেশাদার পদ্ধতিতে ফোন শুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। বর্ষাকালে ফোনকে ওয়াটারপ্রুফ কভার বা পলিথিন পাউচের মধ্যে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। পকেটে রাখার সময়ও সতর্ক থাকুন। ফোনে পানি লেগে গেলেও আতঙ্কিত হবেন না এবং উপরে উল্লিখিত ভুলগুলো একেবারেই করবেন না।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস