ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ Logo উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপের প্রস্তাব লি জে মিয়ংয়ের Logo মাদরাসায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৫ শিক্ষার্থী Logo মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস Logo ৫৮২ টনের ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরী করছে চীন Logo রাস্তা বন্ধ করে এনসিপির সমাবেশ, ক্ষেপে গেলেন পথচারী Logo ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ Logo অক্টোবরেই চালু হবে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল : প্রধানমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতিটি বাঁকে তার কণ্ঠস্বর ছিল অদম্য Logo মা-বাবা হারানো অদম্য তাসফিয়া, ১০ বছর পর হাতিয়ার স্কুলে একমাত্র জিপিএ-৫

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ‘দি গ্র্যান্ড ঢাকা’ হোটেলের ৪০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আতাউল কবির (৪৪) টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আতাউল কবির বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হোটেলের ওই কক্ষে ওঠেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় তার কক্ষ ছাড়ার (চেক আউট) কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে হোটেল কর্মীরা তাকে ডাকলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সন্দেহ হলে হোটেল ব্যবস্থাপক পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি একজন পুলিশ সদস্য।

আতাউল কবির পিরোজপুর জেলার নেছরাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, আতাউল কবির গত এক বছর ধরে ওই ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চার মাস আগে বিষয়টি ওসির নজরে এলে তিনি আতাউলকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন। সম্প্রতি ছুটিতে যাওয়ার পর কর্মস্থলে ফেরার পথেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আতাউল কবিরের মৃত্যুর ধরন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবিতে দেখা যায়, গলায় ফাঁস লাগানো থাকলেও তার পা খাটের ওপর দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, পায়ের তলায় অবলম্বন থাকলে ফাঁস লেগে মৃত্যু হওয়া কতটা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ১২:১২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ‘দি গ্র্যান্ড ঢাকা’ হোটেলের ৪০১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আতাউল কবির (৪৪) টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আতাউল কবির বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হোটেলের ওই কক্ষে ওঠেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় তার কক্ষ ছাড়ার (চেক আউট) কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে হোটেল কর্মীরা তাকে ডাকলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর সন্দেহ হলে হোটেল ব্যবস্থাপক পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি একজন পুলিশ সদস্য।

আতাউল কবির পিরোজপুর জেলার নেছরাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, আতাউল কবির গত এক বছর ধরে ওই ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চার মাস আগে বিষয়টি ওসির নজরে এলে তিনি আতাউলকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন। সম্প্রতি ছুটিতে যাওয়ার পর কর্মস্থলে ফেরার পথেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আতাউল কবিরের মৃত্যুর ধরন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবিতে দেখা যায়, গলায় ফাঁস লাগানো থাকলেও তার পা খাটের ওপর দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, পায়ের তলায় অবলম্বন থাকলে ফাঁস লেগে মৃত্যু হওয়া কতটা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ