তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট জনজীবন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
এর সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে সিপিবির শান্তিনগর শাখা আয়োজিত সমাবেশে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডে আঘাত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট জনজীবন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুললেও সংকট সমাধানে জনগণের ন্যূনতম আস্থা তৈরির মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে শ্রমজীবী মানুষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে দেশ ও জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। সরকারকে গণবিরোধী সব নীতি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানিনির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একের পর এক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল অচল হয়ে পড়ছে।
সংকট সমাধানের বদলে সরকার জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তৎপর বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ত্রিদিব সাহা বলেন, গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে সরকার সাময়িক ও আমদানিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়ানো এবং পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ রাজধানীসহ দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সিপিবির শান্তিনগর শাখার সভাপতি হযরত আলী বলেন, মশা নিধন ও রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। অপর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পানি জমে থাকা এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গু বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ, দেশীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, এলএনজি-নির্ভরতা কমানো এবং জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরজুড়ে সমন্বিত মশকনিধন অভিযান, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শান্তিনগর মোড় থেকে পীর সাহেবের গলি ও শান্তিনগর বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















