আজ ১২ আগস্ট, বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে যুবসমাজ। এই উদীয়মান তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অধিকার, তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং বৈশ্বিক নানা সংকট নিরসনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের শুরু
আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালনের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরনো। তরুণদের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা হয়।
১৯৯৮ সালের ৮ থেকে ১২ আগস্ট পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অফ মিনিস্টার্স রেসপন্সিবল ফর ইয়ুথ’ (তরুণদের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের বিশ্ব সম্মেলন)। সেখানে বিশ্বের তরুণদের বর্তমান অবস্থা ও তাদের সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি বিশেষ দিনকে যুব দিবস হিসেবে পালনের সুপারিশ করা হয়।
লিসবন সম্মেলনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫৪/১২০ নম্বর প্রস্তাবে ১২ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
২০০০ সালের ১২ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয় প্রথম ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস’। সেই থেকে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটির মূল কারণ ও উদ্দেশ্য
বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। মূলত এর মধ্যে দিয়ে- বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
বিশ্বজুড়ে তরুণদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
বেকারত্ব, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলো তরুণদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে তা সমাধান করা।
নতুন বিশ্ব গঠনে তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও সমাজসংস্কারকদের স্বীকৃতি দেওয়া ও উৎসাহিত করা।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের তাৎপর্য
বিশ্ব এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে তরুণদের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
বৈশ্বিক সংকট যেমন—জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ কিংবা প্রযুক্তিগত বিপ্লব—সবক্ষেত্রেই তরুণরা অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
যে দেশগুলোতে তরুণদের সংখ্যা বেশি, সেখানে তরুণদের সঠিক দক্ষতায় রূপান্তর করতে পারলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর তাগিদ দেয় এই দিনটি।
তরুণ প্রজন্ম উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে পুরনো সামাজিক অচলায়তন ভেঙে নতুন, সমতাভিত্তিক এবং সহনশীল সমাজ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। আন্তর্জাতিক যুব দিবস বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাত্পর্য বহন করে। আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সহজ হবে।
এর জন্য প্রয়োজন- যুগোপযোগী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানো এবং নীতি নির্ধারণে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
সবশেষে, তরুণরা কেবল ভবিষ্যতের নেতা নয়, তারা আজকের দিনেরই পরিবর্তনের রূপকার। তাদের সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়াই আন্তর্জাতিক যুব দিবসের আসল অঙ্গীকার। তারুণ্যের হাত ধরেই গড়ে উঠুক একটি বৈষম্যহীন, টেকসই ও সুন্দর বিশ্ব।
বাংলা৭১নিউজ/এসএচিবি
























