ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা সজলের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা নূরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত ১১ আগস্ট হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামি নূরুল ইসলাম সজল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। পাশাপাশি তিনি জারুলিয়া বাজারে ‘সাজল মেডিসিন কর্নার’ নামে একটি ওষুধের দোকানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে ব্যবসা করতেন।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ও নূরুল ইসলাম সজল একই এলাকার বাসিন্দা। ওই নারী তার প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে নিয়মিত সজলের ফার্মেসিতে যেতেন। এ সুযোগে সাজল তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন এবং নানা ধরনের প্রলোভন দেখাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের মুরব্বিরা অভিযুক্তকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন।

সতর্ক করার পরও সাজল ওই নারীকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভুক্তভোগী নারী ঘরের জানালা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় নূরুল ইসলাম সজল কৌশলে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন।

একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এরপর অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মিজান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে মিজান মিয়া অজ্ঞাতনামা আরো ৮ থেকে ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে নূরুল ইসলামকে লোকজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর নূরুল ইসলাম সজল ও তার সহযোগী মিজান মিয়া মামলা না করা এবং স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিসে না যাওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর নূরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা জামায়াতের আমির ইদ্রিস আলী বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ৬ আগস্ট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর জরুরি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নূরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সজলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা সজলের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০৪:২২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত নেতা নূরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গত ১১ আগস্ট হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামি নূরুল ইসলাম সজল চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। পাশাপাশি তিনি জারুলিয়া বাজারে ‘সাজল মেডিসিন কর্নার’ নামে একটি ওষুধের দোকানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে ব্যবসা করতেন।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ও নূরুল ইসলাম সজল একই এলাকার বাসিন্দা। ওই নারী তার প্রতিবন্ধী স্বামী ও সন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে নিয়মিত সজলের ফার্মেসিতে যেতেন। এ সুযোগে সাজল তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন এবং নানা ধরনের প্রলোভন দেখাতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের মুরব্বিরা অভিযুক্তকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন।

সতর্ক করার পরও সাজল ওই নারীকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট রাত ১২টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভুক্তভোগী নারী ঘরের জানালা খুলে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় নূরুল ইসলাম সজল কৌশলে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন।

একপর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এরপর অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মিজান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে মিজান মিয়া অজ্ঞাতনামা আরো ৮ থেকে ১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে নূরুল ইসলামকে লোকজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর নূরুল ইসলাম সজল ও তার সহযোগী মিজান মিয়া মামলা না করা এবং স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিসে না যাওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর নূরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা জামায়াতের আমির ইদ্রিস আলী বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ৬ আগস্ট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর জরুরি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নূরুল ইসলাম সজলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সজলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ