ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ‌‘ডলফিন’

ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ‌‘ডলফিন’। প্রলয়ংকরী টাইফুন ‘ডলফিন’কে ঘিরে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ শক্তির এই টাইফুনের প্রভাবে তীব্র বাতাস, ভারি বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের কারণে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এটি কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

টাইফুনের প্রভাবে শুক্রবার ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে জাপানের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের ৯টি কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ওকিনাওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুনটি তার শক্তি ধরে রাখতে পারে। এতে প্রবল বাতাসের পাশাপাশি তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের একটি সংকীর্ণ রৈখিক বৃষ্টি বলয় তৈরি হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।

টাইফুনের প্রভাব ইতোমধ্যেই কিউশুর দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। প্রবল বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমামোটো প্রিফেকচার, যেখানে গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় এখনো প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ফলে টাইফুন তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ, এপিনিউজ

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ‌‘ডলফিন’

আপডেট সময় ০৮:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী টাইফুন ‌‘ডলফিন’। প্রলয়ংকরী টাইফুন ‘ডলফিন’কে ঘিরে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ শক্তির এই টাইফুনের প্রভাবে তীব্র বাতাস, ভারি বর্ষণ এবং উত্তাল সাগরের কারণে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাগোশিমা ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, টাইফুনটির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৯৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এটি কিউশু অঞ্চল ও ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মধ্যবর্তী দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

টাইফুনের প্রভাবে শুক্রবার ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য দুর্যোগের কারণে জাপানের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা তাদের ৯টি কারখানায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ওকিনাওয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুনটি তার শক্তি ধরে রাখতে পারে। এতে প্রবল বাতাসের পাশাপাশি তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের একটি সংকীর্ণ রৈখিক বৃষ্টি বলয় তৈরি হতে পারে, যা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।

টাইফুনের প্রভাব ইতোমধ্যেই কিউশুর দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। প্রবল বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমামোটো প্রিফেকচার, যেখানে গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় এখনো প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ফলে টাইফুন তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ, এপিনিউজ

বাংলা৭১নিউজ/জেএস