ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার মিলল এক অদ্ভুত ও যুগান্তকারী সম্ভাবনার ইঙ্গিত। ইদানীংকালে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের জন্য তৈরি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ওষুধ ‘ভায়াগ্রা’ বা সিলডেনাফিল ক্যানসার কোষের বিস্তার রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
ইসরায়েলের বিখ্যাত ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের গবেষকদের এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি ‘ক্যানসার রিসার্চ’ নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
মূলত ক্যানসার কোষগুলো যখন শরীরের মূল টিউমার থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন অঙ্গে গিয়ে বাসা বাঁধে, তখন তাদের বেঁচে থাকার জন্য কোলেস্টেরলের প্রয়োজন হয়। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ভায়াগ্রার মূল উপাদান সিলডেনাফিল ক্যানসার কোষের এই কোলেস্টেরল ব্যবহারের পথটিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে ক্যানসার কোষের পক্ষে শরীরের অন্যান্য অংশে বিস্তার লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, রক্তনালী প্রসারিত করার এই বিশেষ ক্ষমতাকে যদি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ বা স্ট্যাটিনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে কার্যকারিতা আরও দ্বিগুণ হতে পারে। যেখানে স্ট্যাটিন শরীরের নতুন কোলেস্টেরল উৎপাদন কমিয়ে দেয়, সেখানে ভায়াগ্রা বিদ্যমান কোলেস্টেরল ব্যবহারে বাধা দেয়।
ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ডের প্রাথমিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, যেসব রোগী ভায়াগ্রা সেবন করতেন তাদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, এবং স্ট্যাটিনের সঙ্গে ব্যবহারের ফলে সেই সুফল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক আইয়েলেট ইরেজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ভায়াগ্রা এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটিকে কোনোভাবেই সরাসরি ক্যানসারের প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। ক্যানসারের চিকিৎসায় এই ওষুধটি মানবদেহে কতটা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য আরও ব্যাপকভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ


























