ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোন থেকে নিজেকে দূরে রাখার ৭ উপায়

ফোন ছাড়া এখন আর কে-ই বা থাকতে পারে! আপনি যতই এড়িয়ে চলতে চান, ফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা যেন ততই আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। অবশ্য কেউ যে নিজ থেকে ফোন ছাড়া থাকতে চায়, এমনও তো নয়। বরং একটা সেকেন্ড সময় পেলেও ফোনটা একটু ঘাঁটাঘাঁটি করা, একই নোটিফিকেশন একশোবার দেখা এগুলো যেন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় না বুঝেই ব্যয় করে ফেলছি এমন সব কাজে, যেগুলো আসলে আলাদা করে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফোনের আসক্তি থেকে বাঁচতে চাইলে এই কাজগুলো করতে পারেন-

অ্যাপ ব্যবহার

অনেক অ্যাপ আপনাকে বলে দিতে পারে আপনি আপনার ফোনে কতটা সময় ব্যয় করেন এবং প্রতিটি অ্যাপে কতক্ষণ থাকেন। এমনকী যদি আপনি খুব বেশি সময় ফোন ব্যবহার না-ও করেন, তবুও এই অ্যাপগুলো আপনাকে আরও কম সময় নষ্ট করতে সাহায্য করবে। কারণ এগুলো আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে, আপনি যাকে কম সময় বলে মনে করছেন, নষ্ট করার জন্য সেটুকু মোটেই স্বল্প সময় নয়।

অ্যালার্ট বন্ধ করুন

যদি আপনার ফোনটি প্রতি কয়েক সেকেন্ডে টেক্সট, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের জন্য বেজে না ওঠে, তবে সেটিকে উপেক্ষা করা সহজ হয়। ফোন চেক করার জন্য অপেক্ষা না করলেও সেগুলো সবই আসবে। সুতরাং অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এসব অ্যালার্ট। তাই সেগুলো বন্ধ রাখাই উত্তম।

অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার

সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য যখন ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন, তখন ইমেইল, টেক্সট এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনার ঘরে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি রাখুন। এতে ফোন থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে রাতে অন্য ঘরে ফোনটি চার্জে দেওয়া এবং সকালে এটি দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা।

হঠাৎ করে ব্যবহার বন্ধ করুন

কিছু বিশেষজ্ঞ ৩ দিনের জন্য ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এটি আপনাকে ফোনের খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে এবং এর পরিবর্তে নতুন, স্বাস্থ্যকর কিছু করার উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। আপনি ধীরে ধীরে আবার ফোন ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যেমন, নির্দিষ্ট সময়ে শুধু কল এবং টেক্সট করা। তারপর যদি আপনি আবার ব্যবহার করতে চান, তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য কাজ শুরু করতে পারেন।

প্রযুক্তিমুক্ত সময়

যদি আপনি ৩ দিনের জন্য আপনার ফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করতে না পারেন, তবে আপনার বাড়িতে ফোন-মুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে রাখুন। আপনি চাইলে অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসও এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সেটা হতে পারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রাতের খাবারের আগে এক ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়, অথবা প্রতি শুক্রবার বিকেল। হাঁটতে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।

শখের কোনো কাজ

বই পড়া বা আপনার পোষা বিড়ালটিকে নিয়ে পার্কে যাওয়ার মতো সহজ কিছু চেষ্টা করুন। এর কোনোটিরই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে বন্ধুদের কফি খেতে বা জগিং করতে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করুন। তাদের বলুন যে আপনি আপনার ফোন বন্ধ রাখছেন এবং তারাও হয়তো একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ডু নট ডিস্টার্ব

বেশিরভাগ স্মার্টফোনে এমন একটি সেটিং থাকে যা আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার ফোনের কিছু অংশ সীমিত করতে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এবং মধ্যরাতের পরে সমস্ত কল এবং অ্যালার্ট বন্ধ করতে পারেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফোন থেকে নিজেকে দূরে রাখার ৭ উপায়

আপডেট সময় ০১:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ফোন ছাড়া এখন আর কে-ই বা থাকতে পারে! আপনি যতই এড়িয়ে চলতে চান, ফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা যেন ততই আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। অবশ্য কেউ যে নিজ থেকে ফোন ছাড়া থাকতে চায়, এমনও তো নয়। বরং একটা সেকেন্ড সময় পেলেও ফোনটা একটু ঘাঁটাঘাঁটি করা, একই নোটিফিকেশন একশোবার দেখা এগুলো যেন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা আমাদের অনেক মূল্যবান সময় না বুঝেই ব্যয় করে ফেলছি এমন সব কাজে, যেগুলো আসলে আলাদা করে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফোনের আসক্তি থেকে বাঁচতে চাইলে এই কাজগুলো করতে পারেন-

অ্যাপ ব্যবহার

অনেক অ্যাপ আপনাকে বলে দিতে পারে আপনি আপনার ফোনে কতটা সময় ব্যয় করেন এবং প্রতিটি অ্যাপে কতক্ষণ থাকেন। এমনকী যদি আপনি খুব বেশি সময় ফোন ব্যবহার না-ও করেন, তবুও এই অ্যাপগুলো আপনাকে আরও কম সময় নষ্ট করতে সাহায্য করবে। কারণ এগুলো আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে, আপনি যাকে কম সময় বলে মনে করছেন, নষ্ট করার জন্য সেটুকু মোটেই স্বল্প সময় নয়।

অ্যালার্ট বন্ধ করুন

যদি আপনার ফোনটি প্রতি কয়েক সেকেন্ডে টেক্সট, ইমেল বা সোশ্যাল মিডিয়া আপডেটের জন্য বেজে না ওঠে, তবে সেটিকে উপেক্ষা করা সহজ হয়। ফোন চেক করার জন্য অপেক্ষা না করলেও সেগুলো সবই আসবে। সুতরাং অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এসব অ্যালার্ট। তাই সেগুলো বন্ধ রাখাই উত্তম।

অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার

সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য যখন ফোনের অ্যালার্ম ব্যবহার করেন, তখন ইমেইল, টেক্সট এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনার ঘরে একটি অ্যালার্ম ঘড়ি রাখুন। এতে ফোন থেকে দূরে থাকা সহজ হবে। অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে রাতে অন্য ঘরে ফোনটি চার্জে দেওয়া এবং সকালে এটি দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা।

হঠাৎ করে ব্যবহার বন্ধ করুন

কিছু বিশেষজ্ঞ ৩ দিনের জন্য ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এটি আপনাকে ফোনের খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে এবং এর পরিবর্তে নতুন, স্বাস্থ্যকর কিছু করার উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। আপনি ধীরে ধীরে আবার ফোন ব্যবহার শুরু করতে পারেন। যেমন, নির্দিষ্ট সময়ে শুধু কল এবং টেক্সট করা। তারপর যদি আপনি আবার ব্যবহার করতে চান, তবে ধীরে ধীরে অন্যান্য কাজ শুরু করতে পারেন।

প্রযুক্তিমুক্ত সময়

যদি আপনি ৩ দিনের জন্য আপনার ফোন ছাড়া জীবন কল্পনা করতে না পারেন, তবে আপনার বাড়িতে ফোন-মুক্ত কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে রাখুন। আপনি চাইলে অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসও এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সেটা হতে পারে প্রতিদিন সন্ধ্যায় রাতের খাবারের আগে এক ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়, অথবা প্রতি শুক্রবার বিকেল। হাঁটতে যান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।

শখের কোনো কাজ

বই পড়া বা আপনার পোষা বিড়ালটিকে নিয়ে পার্কে যাওয়ার মতো সহজ কিছু চেষ্টা করুন। এর কোনোটিরই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে বন্ধুদের কফি খেতে বা জগিং করতে আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করুন। তাদের বলুন যে আপনি আপনার ফোন বন্ধ রাখছেন এবং তারাও হয়তো একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ডু নট ডিস্টার্ব

বেশিরভাগ স্মার্টফোনে এমন একটি সেটিং থাকে যা আপনাকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার ফোনের কিছু অংশ সীমিত করতে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এবং মধ্যরাতের পরে সমস্ত কল এবং অ্যালার্ট বন্ধ করতে পারেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস