ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফিরে দেখা ৩০ জুলাই ২০২৪

গণভবনে রুদ্ধদ্বার ষড়যন্ত্র: ‘জিরো টলারেন্স’ ও বুলেটের নীল নকশা

ইতিহাসের পাতায় ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কেবল কোনো বর্ষাস্নাত পঞ্জিকার সাধারণ পাতা ছিল না। তা ছিল এক পতনোন্মুখ, আত্মবিচ্ছিন্ন ও বিবেকহীন স্বৈরাচারের শেষ কামড়ের ঐতিহাসিক দলিল। রক্তে রঞ্জিত রাজপথ, অগণিত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার যখন একদিকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নামে আন্তর্জাতিক ধোঁকাবাজি এবং রাষ্ট্রীয় শোকের নাটক সাজিয়েছিল, অন্যদিকে বিজিবি, পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে তুলে দিয়েছিল নির্বিচার গণহত্যার তোঘলকি পরোয়ানা। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, মধ্যরাতের চিরুনি অভিযান, ১৪ দলের ব্যানারে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের রাজনৈতিক চাল কিংবা ফোনালাপে ‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তের’ তত্ত্ব—কোনো কিছুই রাজপথে বয়ে যাওয়া শহীদের রক্তের তোড়কে থামাতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি তথ্যানুযায়ী, ততদিনে বুলেট ও টিয়ারশেলে নিভে গিয়েছিল ২ শতাধিক তাজা প্রাণ। হাসপাতালগুলোর ট্রমা সেন্টার আর জরুরি বিভাগে ঠাঁই পাচ্ছিল না গুলিবিদ্ধ মানুষ; সারা দেশে আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ১০ হাজার। অগণিত কিশোর-তরুণ চোখ হারিয়ে চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আন্দোলন দমনের নামে শুরু হওয়া ‘ব্লক রেইডে’ ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘরবাড়ির দরজা ভেঙে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া, ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতন এবং লাখ লাখ অজ্ঞাতনামা মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুরো দেশকে এক বিশাল কারাগারে পরিণত করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাদ্ধ শেখ হাসিনা সরকার। স্বৈরাচারের এই নির্মমতা কাজে আসেনি। বরং ৩০ জুলাই প্রমাণ করেছিল, বুলেটের ভয় দেখিয়ে কোনো শোষকের মসনদ অনন্তকাল টিকিয়ে রাখা যায় না। ছাত্র-জনতার রক্তে আঁকা সেই প্রতিবাদের লাল রঙই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা হয়ে আগস্টের রক্তিম ভোরে শত বছরের ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খলকে ভস্মীভূত করে দিয়েছিল।

 রাষ্ট্রীয় ‘শোক’ বনাম প্রদীপ্ত লাল

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই—সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করে। তবে যে হাত রক্তে রঞ্জিত, সেই হাতের দেওয়া শোককে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা। সরকারের এই লোকদেখানো শোকের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দেশের মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে রাঙিয়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যম লালে লাল হয়ে ওঠে—যা ছিল ফ্যাসিবাদের মুখে এক প্রচণ্ড চড় এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বজনীন প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক।

তদন্তের নামে আন্তর্জাতিক নাটক

একদিকে রাজপথে স্বৈরাচারের বুলেট, অন্যদিকে দরবারে প্রহসনের রাজনীতি। ৩০ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন তদন্তের জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যাতে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে, সে জন্য জাতিসংঘের (ইউএন) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে ততক্ষণে দেশের সচেতন জনগণ বুঝে গিয়েছিল—এটি কেবল সময়ক্ষেপণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধোঁকা দেওয়ার এক সুচতুর অপচেষ্টা।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’

সারা দেশে পরিচালিত গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, গুম, হামলা ও ছাত্র-জনতার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের এনক্রিপ্টেড অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৩১ জুলাইয়ের জন্য ঘোষিত এই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের লক্ষে ৩০ জুলাই থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। ৯ দফা দাবি আদায়ে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস, রাজপথ এবং দেশের সর্বস্তরের আদালত প্রাঙ্গণকে প্রতিবাদের মঞ্চ বানানোর ডাক দেওয়া হয়। দিনটিতে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এবং উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রতিটি অলিগলিতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।

পুলিশ-বিজিবি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

৩০ জুলাইয়ের আবহ জুড়েই ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার ছাপ। উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা এবং ধানমন্ডির মতো এলাকাগুলো ততদিনে যেন এক একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রংপুর এবং নরসিংদীর মতো জেলাগুলোতে পুলিশ ও বিজিবির নির্বিচার গুলি ছোঁড়ার নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে রাজপথে নেমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীদের হুংকার ও হুমকি ধামকিতে প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও বিষাক্ত হয়ে উঠছিল। নিরপরাধ কিশোর-তরুণদের বাসার দরজা ভেঙে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া, ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা এবং ভয়ের রাজত্ব তৈরি করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে রূপ দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার।

বাহিনী প্রধানদের সাথে বৈঠক ও কড়া নির্দেশ

আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যখন সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিচ্ছিল, তখন শেখ হাসিনা পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

বৈঠকে যেকোনো মূল্যে রাজপথ আন্দোলনকারীদের মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিজিবিকে কঠোর অবস্থান ধরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের আপডেট নেন। বিভিন্ন ফোনালাপ ও পরবর্তী সূত্রে জানা যায়, তিনি স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছিলেন—কোনোভাবেই যেন বিক্ষোভকারীদের একত্র হতে না দেওয়া হয় এবং কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখা হয়।

আমলাদের সাথে দফায় দফায় সমন্বয় সভা

আন্দোলন দমনে কেবল বলপ্রয়োগ নয়, প্রশাসনিক কৌশল বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রকে পুরোপুরি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলাদের সাথে বৈঠক করে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বজায় রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোখা এবং ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সমর্থকদের তালিকা তৈরি করে রাতে রাতে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় প্রশাসনের শীর্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সাথে বৈঠক

৩০ জুলাইয়ের সেই সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

এই বৈঠকেই ১৪ দলের নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান যে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো যুক্ত। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে এবং আইনিভাবে দমন করতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার রাজনৈতিক প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পায়।

১৪ দলের সভা শেষে তৎকালীন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা রাজপথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনকারীদের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।

ফোনালাপে ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব

বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসা শেখ হাসিনার তৎকালীন ফোনালাপ ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের ভেতরে এক ধরনের চরম প্যানিক বা ভীতি তৈরি হয়েছিল।

তিনি ক্রমাগত তাঁর অনুগত আমলা ও দলীয় নেতাদের বোঝাচ্ছিলেন যে এটি আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই, এটি সরকার ফেলার এক গভীর দেশি-বিদেশি চক্রান্ত।

আন্দোলন দমনে আন্তর্জাতিক চাপ (জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ) এড়িয়ে কীভাবে অভ্যন্তরীণভাবে পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে তিনি তাঁর অনুগত দলবাজ আমলা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের থেকে কৌশলগত পরামর্শ নিচ্ছিলেন।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও রাজপথের গণহত্যা নিয়ে ততদিনে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। ৩০ জুলাই জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ২৮ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ এবং হাজার হাজার তরুণ, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গণগ্রেপ্তারের খবরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। মহাসচিব স্পষ্ট ভাষায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দেন।

রক্তস্নাত জুলাইয়ের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

সরকারি ও বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় (যার মধ্যে শিশু, শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন)। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং গুলিবিদ্ধ আহতের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। কেবল চক্ষু হাসপাতালেই ছররা গুলিতে চোখে আঘাত নিয়ে ভর্তি হন কয়েকশো তরুণ ও শিশু, যাদের অনেকেই চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান।

সারা দেশে ‘ব্লক রেইড’ ও চিরুনি অভিযানের নামে ৩০ জুলাই পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে। কেবল ঢাকা মহানগরীতেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের ওপরে।

বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় সাড়ে ৬ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আসামি করা হয়েছিল কয়েক লাখ মানুষকে।

উপসংহার

৩০ জুলাই ২০২৪ উন্মোচিত করেছিল এক পতনোন্মুখ শোষকের চূড়ান্ত দেউলিয়াত্ব। লোকদেখানো ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ আর তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক তদন্তের’ অন্তরালে সেদিন বসেছিল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পৈশাচিক মেলা—যেখানে আমলা, বাহিনীর প্রধান আর ১৪ দলীয় চাটুকাররা মিলে গণমানুষের কণ্ঠরোধের নীল নকশা এঁকেছিল। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ করে, রাজপথে রক্ত ভাসিয়ে আর মধ্যরাতের গুম-গ্রেপ্তার চালিয়েও জনতার প্রবল বিস্ফোরণকে রোধ করা যায়নি। স্বৈরাচারের এই অন্ধ দমন-পীড়নই ছিল তার নিজ হাতে কাটা নিজের কবর। ৩০ জুলাইয়ের রক্তস্নাত প্রতিরোধ প্রমাণ করেছিল, বন্দুকের নলের ওপর ভর করে সাময়িক ভয় দেখানো গেলেও মুক্তিকামী জনসমুদ্রের জোয়ারকে থামিয়ে রাখার শক্তি কোনো ফ্যাসিবাদের থাকে না।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফিরে দেখা ৩০ জুলাই ২০২৪

গণভবনে রুদ্ধদ্বার ষড়যন্ত্র: ‘জিরো টলারেন্স’ ও বুলেটের নীল নকশা

আপডেট সময় ০৫:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কেবল কোনো বর্ষাস্নাত পঞ্জিকার সাধারণ পাতা ছিল না। তা ছিল এক পতনোন্মুখ, আত্মবিচ্ছিন্ন ও বিবেকহীন স্বৈরাচারের শেষ কামড়ের ঐতিহাসিক দলিল। রক্তে রঞ্জিত রাজপথ, অগণিত লাশের ওপর দাঁড়িয়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার যখন একদিকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নামে আন্তর্জাতিক ধোঁকাবাজি এবং রাষ্ট্রীয় শোকের নাটক সাজিয়েছিল, অন্যদিকে বিজিবি, পুলিশ ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে তুলে দিয়েছিল নির্বিচার গণহত্যার তোঘলকি পরোয়ানা। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, মধ্যরাতের চিরুনি অভিযান, ১৪ দলের ব্যানারে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের রাজনৈতিক চাল কিংবা ফোনালাপে ‘দেশি-বিদেশি চক্রান্তের’ তত্ত্ব—কোনো কিছুই রাজপথে বয়ে যাওয়া শহীদের রক্তের তোড়কে থামাতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি তথ্যানুযায়ী, ততদিনে বুলেট ও টিয়ারশেলে নিভে গিয়েছিল ২ শতাধিক তাজা প্রাণ। হাসপাতালগুলোর ট্রমা সেন্টার আর জরুরি বিভাগে ঠাঁই পাচ্ছিল না গুলিবিদ্ধ মানুষ; সারা দেশে আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ১০ হাজার। অগণিত কিশোর-তরুণ চোখ হারিয়ে চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে যায়। আন্দোলন দমনের নামে শুরু হওয়া ‘ব্লক রেইডে’ ৩০ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘরবাড়ির দরজা ভেঙে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া, ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতন এবং লাখ লাখ অজ্ঞাতনামা মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুরো দেশকে এক বিশাল কারাগারে পরিণত করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাদ্ধ শেখ হাসিনা সরকার। স্বৈরাচারের এই নির্মমতা কাজে আসেনি। বরং ৩০ জুলাই প্রমাণ করেছিল, বুলেটের ভয় দেখিয়ে কোনো শোষকের মসনদ অনন্তকাল টিকিয়ে রাখা যায় না। ছাত্র-জনতার রক্তে আঁকা সেই প্রতিবাদের লাল রঙই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা হয়ে আগস্টের রক্তিম ভোরে শত বছরের ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খলকে ভস্মীভূত করে দিয়েছিল।

 রাষ্ট্রীয় ‘শোক’ বনাম প্রদীপ্ত লাল

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই—সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করে। তবে যে হাত রক্তে রঞ্জিত, সেই হাতের দেওয়া শোককে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা। সরকারের এই লোকদেখানো শোকের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দেশের মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে রাঙিয়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যম লালে লাল হয়ে ওঠে—যা ছিল ফ্যাসিবাদের মুখে এক প্রচণ্ড চড় এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বজনীন প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক।

তদন্তের নামে আন্তর্জাতিক নাটক

একদিকে রাজপথে স্বৈরাচারের বুলেট, অন্যদিকে দরবারে প্রহসনের রাজনীতি। ৩০ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও মানসম্পন্ন তদন্তের জন্য বিদেশি কারিগরি সহায়তা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যাতে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করে, সে জন্য জাতিসংঘের (ইউএন) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে ততক্ষণে দেশের সচেতন জনগণ বুঝে গিয়েছিল—এটি কেবল সময়ক্ষেপণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধোঁকা দেওয়ার এক সুচতুর অপচেষ্টা।

‘মার্চ ফর জাস্টিস’

সারা দেশে পরিচালিত গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, গুম, হামলা ও ছাত্র-জনতার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের এনক্রিপ্টেড অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৩১ জুলাইয়ের জন্য ঘোষিত এই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের লক্ষে ৩০ জুলাই থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। ৯ দফা দাবি আদায়ে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস, রাজপথ এবং দেশের সর্বস্তরের আদালত প্রাঙ্গণকে প্রতিবাদের মঞ্চ বানানোর ডাক দেওয়া হয়। দিনটিতে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এবং উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রতিটি অলিগলিতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সংঘটিত হয়।

পুলিশ-বিজিবি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব

৩০ জুলাইয়ের আবহ জুড়েই ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পৈশাচিক নিষ্ঠুরতার ছাপ। উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা এবং ধানমন্ডির মতো এলাকাগুলো ততদিনে যেন এক একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রংপুর এবং নরসিংদীর মতো জেলাগুলোতে পুলিশ ও বিজিবির নির্বিচার গুলি ছোঁড়ার নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে রাজপথে নেমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীদের হুংকার ও হুমকি ধামকিতে প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও বিষাক্ত হয়ে উঠছিল। নিরপরাধ কিশোর-তরুণদের বাসার দরজা ভেঙে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়া, ডিবি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা এবং ভয়ের রাজত্ব তৈরি করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে রূপ দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার।

বাহিনী প্রধানদের সাথে বৈঠক ও কড়া নির্দেশ

আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যখন সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিচ্ছিল, তখন শেখ হাসিনা পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

বৈঠকে যেকোনো মূল্যে রাজপথ আন্দোলনকারীদের মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিজিবিকে কঠোর অবস্থান ধরে রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের আপডেট নেন। বিভিন্ন ফোনালাপ ও পরবর্তী সূত্রে জানা যায়, তিনি স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছিলেন—কোনোভাবেই যেন বিক্ষোভকারীদের একত্র হতে না দেওয়া হয় এবং কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখা হয়।

আমলাদের সাথে দফায় দফায় সমন্বয় সভা

আন্দোলন দমনে কেবল বলপ্রয়োগ নয়, প্রশাসনিক কৌশল বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রকে পুরোপুরি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলাদের সাথে বৈঠক করে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বজায় রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোখা এবং ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সমর্থকদের তালিকা তৈরি করে রাতে রাতে চিরুনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় প্রশাসনের শীর্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের।

১৪ দলীয় জোটের নেতাদের সাথে বৈঠক

৩০ জুলাইয়ের সেই সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক সুরক্ষাবলয় তৈরি করতে শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

এই বৈঠকেই ১৪ দলের নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছান যে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো যুক্ত। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে এবং আইনিভাবে দমন করতে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার রাজনৈতিক প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ পায়।

১৪ দলের সভা শেষে তৎকালীন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা রাজপথে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং আন্দোলনকারীদের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।

ফোনালাপে ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব

বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসা শেখ হাসিনার তৎকালীন ফোনালাপ ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের ভেতরে এক ধরনের চরম প্যানিক বা ভীতি তৈরি হয়েছিল।

তিনি ক্রমাগত তাঁর অনুগত আমলা ও দলীয় নেতাদের বোঝাচ্ছিলেন যে এটি আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই, এটি সরকার ফেলার এক গভীর দেশি-বিদেশি চক্রান্ত।

আন্দোলন দমনে আন্তর্জাতিক চাপ (জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ) এড়িয়ে কীভাবে অভ্যন্তরীণভাবে পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে তিনি তাঁর অনুগত দলবাজ আমলা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের থেকে কৌশলগত পরামর্শ নিচ্ছিলেন।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও রাজপথের গণহত্যা নিয়ে ততদিনে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। ৩০ জুলাই জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ২৮ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ এবং হাজার হাজার তরুণ, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গণগ্রেপ্তারের খবরে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। মহাসচিব স্পষ্ট ভাষায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দেন।

রক্তস্নাত জুলাইয়ের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

সরকারি ও বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ২ শতাধিক মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় (যার মধ্যে শিশু, শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন)। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং গুলিবিদ্ধ আহতের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। কেবল চক্ষু হাসপাতালেই ছররা গুলিতে চোখে আঘাত নিয়ে ভর্তি হন কয়েকশো তরুণ ও শিশু, যাদের অনেকেই চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারান।

সারা দেশে ‘ব্লক রেইড’ ও চিরুনি অভিযানের নামে ৩০ জুলাই পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে। কেবল ঢাকা মহানগরীতেই গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের ওপরে।

বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় সাড়ে ৬ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আসামি করা হয়েছিল কয়েক লাখ মানুষকে।

উপসংহার

৩০ জুলাই ২০২৪ উন্মোচিত করেছিল এক পতনোন্মুখ শোষকের চূড়ান্ত দেউলিয়াত্ব। লোকদেখানো ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ আর তথাকথিত ‘আন্তর্জাতিক তদন্তের’ অন্তরালে সেদিন বসেছিল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পৈশাচিক মেলা—যেখানে আমলা, বাহিনীর প্রধান আর ১৪ দলীয় চাটুকাররা মিলে গণমানুষের কণ্ঠরোধের নীল নকশা এঁকেছিল। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ করে, রাজপথে রক্ত ভাসিয়ে আর মধ্যরাতের গুম-গ্রেপ্তার চালিয়েও জনতার প্রবল বিস্ফোরণকে রোধ করা যায়নি। স্বৈরাচারের এই অন্ধ দমন-পীড়নই ছিল তার নিজ হাতে কাটা নিজের কবর। ৩০ জুলাইয়ের রক্তস্নাত প্রতিরোধ প্রমাণ করেছিল, বন্দুকের নলের ওপর ভর করে সাময়িক ভয় দেখানো গেলেও মুক্তিকামী জনসমুদ্রের জোয়ারকে থামিয়ে রাখার শক্তি কোনো ফ্যাসিবাদের থাকে না।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি