ইউক্রেনের উপকূলের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। চার বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো হামলায় ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। দিল্লিতে নিযুক্ত রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক ভ্লাদিমির লাদানভকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে রুশ সরকারের কাছে ভারতের তীব্র উদ্বেগের বিষয়টি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।” বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো এবং তার ফলে নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামক বেসামরিক জাহাজটি ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ত্যাগ করছিল। ইউক্রেন ঘোষিত সামুদ্রিক করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি রাশিয়ার হামলার শিকার হয়। হামলার সময় জাহাজে ১৭ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয়।
আক্রমণে চারজন ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং বাকি একজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, এই হামলায় চারজন ভারতীয় এবং ছয়জন সিরিয়ান নাগরিকসহ মোট ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা নিহত ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহত ভারতীয় নাগরিকের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।”
সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ না বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত এ ধরনের হামলার নিন্দা জানায়। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং মুক্ত নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ এবং যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রেই এটি পরিহার করা উচিত।”
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র হতে থাকা শত্রুতার মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটলো।
বাংলা৭১নিউজ/এসএম



























