ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo তেজগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ২ Logo ‘কঠিন সময়েই দায়িত্ব পেয়েছি, আবার ঘুরে দাঁড়াবে আল-আরাফাহ ব্যাংক’ Logo বদলির তদবির নিয়ে শিক্ষকদের ভিড়ে অফিসে ঢুকতে পারি না: শিক্ষামন্ত্রী Logo ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স Logo টাঙ্গাইলে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা Logo রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম Logo প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ Logo এবার মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিক্ষোভ Logo সৌদিতে গৃহকর্মীদের ইকামা নবায়নে বড় সুখবর

টাঙ্গাইলে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ভাঙন শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যে মূল বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধের অবশিষ্ট অংশেও একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি থেকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঝোঁকারচর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধটি যমুনা নদীর ভাঙন ও বন্যা থেকে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা করে। একই সঙ্গে বাঁধটির ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কও চলাচল করে।

পাউবো জানায়, টানা তিন দিনের উজানের ঢল ও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে যমুনার বাম তীরে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় মূল বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত বাঁধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং আরও জিওব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে।

হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, জিওব্যাগের পাশাপাশি গাছপালা ফেলেও ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অবশিষ্ট অংশ যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা ঘরবাড়ি থেকে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি। অতীতেও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ভাঙনরোধে সহায়তা করেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আওয়াল জানান, মূল বাঁধের স্লোপসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অংশেও ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার নদী ও বাঁধ এলাকায় ইকো সার্ভে পরিচালনা করা হবে। নদীতলের ক্ষয় চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বাঁধের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং বাকি অংশেও মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় পুরো বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁধসংলগ্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁওয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী হত্যা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ২

টাঙ্গাইলে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ভাঙন শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যে মূল বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধের অবশিষ্ট অংশেও একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি থেকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ঝোঁকারচর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বাঁধটি যমুনা নদীর ভাঙন ও বন্যা থেকে দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা করে। একই সঙ্গে বাঁধটির ওপর দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কও চলাচল করে।

পাউবো জানায়, টানা তিন দিনের উজানের ঢল ও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে যমুনার বাম তীরে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইস গেটসংলগ্ন এলাকায় মূল বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত বাঁধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং আরও জিওব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে।

হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, জিওব্যাগের পাশাপাশি গাছপালা ফেলেও ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। অবশিষ্ট অংশ যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা ঘরবাড়ি থেকে মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন জরুরি। অতীতেও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ভাঙনরোধে সহায়তা করেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আওয়াল জানান, মূল বাঁধের স্লোপসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট অংশেও ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার নদী ও বাঁধ এলাকায় ইকো সার্ভে পরিচালনা করা হবে। নদীতলের ক্ষয় চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বাঁধের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং বাকি অংশেও মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় পুরো বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁধসংলগ্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের জন্য যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ