ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধিনিষেধে আবদ্ধ ঢাবি এলাকায় বিশ্বকাপের ফাইনালের উন্মাদনায় ভাটা

নানা বিধিনিষেধ নিষেধে আবদ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। অন্যান্য ম্যাচে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নেই তেমন উন্মাদনা। অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বহিরাগতদের প্রবেশ ও যান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে কমে গেছে মানুষের চলাচল ও যান চলাচল।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় অল্প কিছু মানুষ এসেছে টিএসসিতে খেলা দেখতে, তাদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বহিরাগতদের আনাগোনাও প্রায় বন্ধ। ফাইনাল ম্যাচের উন্মাদনা কিংবা হৈ-হুল্লোড় নেই তেমন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের পরিবেশ অনেকটা নিরিবিলি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণত অন্যান্য ম্যাচে মানুষের সমাগম প্রচুর পরিমাণে দেখা গেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। এছাড়া শব্দদূষণ হয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।

তিনি বলেন, ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা খুবই ভালো লাগছে। ফাইনাল ম্যাচেও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের দেখা যাচ্ছে না। সেইসঙ্গে যারা খেলা দেখবে তাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গভীর রাতের ম্যাচগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের উদ্বেগ থাকত। প্রশাসন এবার আগে থেকেই যান চলাচল ও বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমরা ক্যাম্পাসের ছাত্রীরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি। হৈ-হুল্লোড় একটু কম হলেও, নিজ ক্যাম্পাসে শান্তিতে ও নিরাপদে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার এই পরিবেশটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ’ উপলক্ষ্যে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত অতিথিদের প্রবেশ এবং যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

এতে আরও জানানো হয়, ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথসমূহ— শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেত দিয়ে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে। তবে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড-শেয়ার, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং বাহন এবং অন্যান্য সরকারি যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর বাইরে অন্যান্য যেকোনো যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সার্বিক বিধিনিষেধের মধ্যেও পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ক্যাম্পাসে গণপরিবহন ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ সর্বদা নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিধিনিষেধে আবদ্ধ ঢাবি এলাকায় বিশ্বকাপের ফাইনালের উন্মাদনায় ভাটা

আপডেট সময় ১১:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নানা বিধিনিষেধ নিষেধে আবদ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। অন্যান্য ম্যাচে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও ফাইনাল ম্যাচে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নেই তেমন উন্মাদনা। অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত বহিরাগতদের প্রবেশ ও যান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে কমে গেছে মানুষের চলাচল ও যান চলাচল।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় অল্প কিছু মানুষ এসেছে টিএসসিতে খেলা দেখতে, তাদের বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বহিরাগতদের আনাগোনাও প্রায় বন্ধ। ফাইনাল ম্যাচের উন্মাদনা কিংবা হৈ-হুল্লোড় নেই তেমন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের পরিবেশ অনেকটা নিরিবিলি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণত অন্যান্য ম্যাচে মানুষের সমাগম প্রচুর পরিমাণে দেখা গেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়। এছাড়া শব্দদূষণ হয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।

তিনি বলেন, ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতা খুবই ভালো লাগছে। ফাইনাল ম্যাচেও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছাড়া বহিরাগতদের দেখা যাচ্ছে না। সেইসঙ্গে যারা খেলা দেখবে তাদের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রায়ই নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে গভীর রাতের ম্যাচগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের উদ্বেগ থাকত। প্রশাসন এবার আগে থেকেই যান চলাচল ও বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমরা ক্যাম্পাসের ছাত্রীরা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি। হৈ-হুল্লোড় একটু কম হলেও, নিজ ক্যাম্পাসে শান্তিতে ও নিরাপদে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার এই পরিবেশটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ’ উপলক্ষ্যে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ব্যতীত অতিথিদের প্রবেশ এবং যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

এতে আরও জানানো হয়, ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথসমূহ— শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেত দিয়ে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে। তবে জরুরি সেবার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড-শেয়ার, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং বাহন এবং অন্যান্য সরকারি যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর বাইরে অন্যান্য যেকোনো যানবাহনের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সার্বিক বিধিনিষেধের মধ্যেও পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ক্যাম্পাসে গণপরিবহন ও ভারী যানবাহনের প্রবেশ সর্বদা নিয়ন্ত্রিত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস