যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলা অব্যাহত রাখলে ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘন দেখিয়ে দিয়েছে যে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করা যায় না।
বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর। নির্যাতন, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে চায়, তাহলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা এমন জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে। খবর আল জাজিরার।
এর আগে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন সেতু, রেললাইন ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। হামলার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে।
মোজতবা খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘প্রতারণা, অবিশ্বস্ততা ও আগ্রাসী চরিত্র’ আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি দেশবাসীকে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলবাজারে নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
উল্লেখ্য, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান। তবে উভয় দেশই পরবর্তীতে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ওই সমঝোতাকে কার্যত বাতিল ঘোষণা করেছে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি























