ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নির্বাচন কে করবে, না করবে- সেটি ইসি ও আদালতের বিষয় : রিজভী Logo হঠাৎ কী হলো ফেসবুকের, একসঙ্গে সমস্যায় লাখো ব্যবহারকারী Logo কল্যাণপুরে চিলেকোঠায় আটকে বাবা-ছেলেকে নির্যাতন, ৫০ হাজারে মেলে মুক্তি Logo নতুন ইইউ সীমান্ত ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি Logo রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে Logo নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল Logo সাত অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে এক নম্বর সংকেত Logo হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর Logo রাজধানীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেলো বৃদ্ধের

গোলবন্যার রাতে ইতিহাস বদল: এমবাপের মুকুটে বিশ্বরেকর্ডের নতুন পালক

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম যেন রূপ নিয়েছিল এক চরম নাটকীয়তার মঞ্চে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার সাক্ষীই হয়ে রইল না, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখে দিল এক নতুন মহাকাব্য। প্রথমার্ধেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু ফরাসিদের অভিধানে যে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটাই নেই!

দ্বিতীয়মার্ধে এক অদম্য ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে ফরাসিরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক আর কেউ নন—কাইলিয়ান এমবাপে। তাঁর জাদুকরী পায়ের জোড়া গোলে ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে ফেরে ফ্রান্স। যদিও শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে ইংলিশরা ম্যাচটি ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেয়, তবুও পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নেন এমবাপে। দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের এক অনন্য এভারেস্টে পা রাখলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড; ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে এখন তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের একক অধিপতি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই, ৪৮ মিনিটের মাথায় যখন এমবাপের শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখনই চলতি আসরের গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠে যান তিনি। একই সাথে স্পর্শ করেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির গড়া ২১ গোলের মহাকীর্তি। কিন্তু এমবাপের ক্ষুধা যেন সেখানেই মেটার ছিল না। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন, তখন চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ (৮ গোল নিয়ে মেসি আছেন দ্বিতীয় স্থানে)। আর এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা হয়—লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিজের করে নেন এই ফরাসি জাদুকর।

তবে ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এমবাপের কেড়ে নেওয়া মুকুট পুনরুদ্ধার করার এক দারুণ ও মহাকাব্যিক সুযোগ এখনো টিকে আছে লিওনেল মেসির সামনে। আগামী রোববার স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেই মহারণে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক যদি জোড়া গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের ভাগীদার হবেন তিনি। আর যদি দেখা মেলে এক জাদুকরী হ্যাটট্রিকের, তবে এমবাপেকে টপকে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক ট্রফিটাও উঠবে ফুটবলের এই ক্ষুদে জাদুকরের হাতে।

বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, এখন দেখার বিষয়—এমবাপের গড়া নতুন সাম্রাজ্যে মেসি কি পারবেন তাঁর রাজদণ্ড ফিরিয়ে নিতে? উত্তর লুকিয়ে আছে রোববারের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে।

বাংরা৭১নিউজ/এসএম

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কে করবে, না করবে- সেটি ইসি ও আদালতের বিষয় : রিজভী

গোলবন্যার রাতে ইতিহাস বদল: এমবাপের মুকুটে বিশ্বরেকর্ডের নতুন পালক

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম যেন রূপ নিয়েছিল এক চরম নাটকীয়তার মঞ্চে। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু গোলবন্যার সাক্ষীই হয়ে রইল না, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিখে দিল এক নতুন মহাকাব্য। প্রথমার্ধেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবলের তোড়ে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু ফরাসিদের অভিধানে যে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটাই নেই!

দ্বিতীয়মার্ধে এক অদম্য ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে ফরাসিরা। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক আর কেউ নন—কাইলিয়ান এমবাপে। তাঁর জাদুকরী পায়ের জোড়া গোলে ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে ফেরে ফ্রান্স। যদিও শেষ পর্যন্ত বুকায়ো সাকার অনবদ্য হ্যাটট্রিকে ইংলিশরা ম্যাচটি ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নেয়, তবুও পরাজয়ের গ্লানি ছাপিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নেন এমবাপে। দল হারলেও ব্যক্তিগত অর্জনের এক অনন্য এভারেস্টে পা রাখলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড; ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে এখন তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের একক অধিপতি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই, ৪৮ মিনিটের মাথায় যখন এমবাপের শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখনই চলতি আসরের গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠে যান তিনি। একই সাথে স্পর্শ করেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির গড়া ২১ গোলের মহাকীর্তি। কিন্তু এমবাপের ক্ষুধা যেন সেখানেই মেটার ছিল না। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন, তখন চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০-এ (৮ গোল নিয়ে মেসি আছেন দ্বিতীয় স্থানে)। আর এই গোলের সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা হয়—লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে ২২ গোল নিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিজের করে নেন এই ফরাসি জাদুকর।

তবে ইতিহাসের এই রোমাঞ্চকর লড়াই এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। এমবাপের কেড়ে নেওয়া মুকুট পুনরুদ্ধার করার এক দারুণ ও মহাকাব্যিক সুযোগ এখনো টিকে আছে লিওনেল মেসির সামনে। আগামী রোববার স্বপ্নের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেসির আর্জেন্টিনা। সেই মহারণে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক যদি জোড়া গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের ভাগীদার হবেন তিনি। আর যদি দেখা মেলে এক জাদুকরী হ্যাটট্রিকের, তবে এমবাপেকে টপকে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার একক ট্রফিটাও উঠবে ফুটবলের এই ক্ষুদে জাদুকরের হাতে।

বিশ্বকাপের মঞ্চ প্রস্তুত, এখন দেখার বিষয়—এমবাপের গড়া নতুন সাম্রাজ্যে মেসি কি পারবেন তাঁর রাজদণ্ড ফিরিয়ে নিতে? উত্তর লুকিয়ে আছে রোববারের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালে।

বাংরা৭১নিউজ/এসএম