ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই উন্মাদনার বিশেষ একটি অধ্যায় এবার যোগ হলো বাংলাদেশে। প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচ বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে বসে উপভোগ করতে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে এসেছেন আর্জেন্টিনার দুই নাগরিক ফার্নান্দা ও জনাথান।
এই অভূতপূর্ব ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর সোনিয়া মুন্নি।
গতকাল (শুক্রবার) দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে সোনিয়া মুন্নি লিখেছেন, ‘ফার্নান্দা ও জনাথান আর্জেন্টাইন নাগরিক, ওরা দুজন আজ আমাদের ব্যাংকক দূতাবাসে এসেছিলো বাংলাদেশের ভিসা নিতে। ওরা থাইল্যান্ড বেড়াতে এসেছে মাস খানেক আগে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা জয়ী হওয়ার পরে ওরা সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশে গিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ দেখবে।’
তিনি আরও জানান, ওই দুই আর্জেন্টাইন পর্যটক থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে বেশ দূরের শহর চিয়াংমাইতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে গিয়ে ফাইনাল দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তারা সেখান থেকে ফ্লাইটে ব্যাংককে আসেন এবং দ্রুত ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ভিসা নেওয়ার সময় ঘটে যাওয়া এক চমৎকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কাউন্সেলর লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার একটা ভিডিও ওদের মোবাইলে দেখিয়ে জায়গাটা কোথায় জানতে চাইলো, ওখানে ওরা সবার সাথে আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে চায়। দেখলাম জায়গাটা আমার নিজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য এলাকা।’
বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তদের এই তুমুল আবেগ ও উন্মাদনা ছুঁয়ে গেছে ওই দুই আর্জেন্টাইন নাগরিককেও। অফিস শেষে বাসায় ফিরে সোনিয়া মুন্নি দেখতে পান, ফার্নান্দা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দূতাবাসের কাউন্সেলরের সাথে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে আর্জেন্টাইন স্প্যানিশ ভাষায় তিনি লিখেছেন, ‘Cuando lo mas Argentino que tenes cerca es Bangladesh!’ যার অর্থ দাঁড়ায় ‘যখন আপনার সবচেয়ে কাছের জিনিসটিই হলো বাংলাদেশ!’
এই বার্তার গভীরতা প্রকাশ করে সোনিয়া মুন্নি তাঁর স্ট্যাটাসে যোগ করেন, ‘ওদের দেশ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে, এমন একটা আনন্দ-উদযাপনের সময়ে ওরা যখন নিজেদের দেশ থেকে অনেক দূরে, তখন আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আবেগ দেখে বাংলাদেশকে ওদের কাছে অনেকটা আর্জেন্টিনার মতোই মনে হয়েছে…!!’
ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ফুটবলের এই অবিশ্বাস্য মেলবন্ধনে মুগ্ধ হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের এই কূটনীতিক লিখেছেন, ‘আর্টস, স্পোর্টস, কালচার কিভাবে ডিপ্লোম্যাসিতে ভূমিকা রাখে সেটা নয়, বরং আমি মুগ্ধ হয়ে ভাবছি, আবেগ কিভাবে ভৌগোলিক ভূখণ্ডের দুই প্রান্তে থাকা দু’টি জাতিকে এক করে দেয়।’
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে বাংলাদেশি সমর্থকদের সঙ্গে গ্যালারির আবহে নিজ দেশের জন্য গলা মেলাবেন ফার্নান্দা ও জনাথান।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















