মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোকে ঘিরে নৌ অবরোধও কার্যকর করা হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন চলছে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সর্বশেষ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। এরপর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে বলা হয়েছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলী আল সালেম ঘাঁটির গোলাবারুদ ডিপো, সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এ ছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সফল ড্রোন হামলার দাবিও করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/এসএম





















