ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo স্মৃতির করিডোরে শুধুই শূন্যতা: এক আলোকবর্তিকার অকালে বিদায় Logo বন্দী যখন নিজেই এক জলন্ত বিপ্লব: যাঁর মুক্তির দাবিতে কেঁপেছিল বিশ্ব Logo দাবানলের ধোঁয়ায় বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে শঙ্কা Logo চীনের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের, তবুও… Logo ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কায় ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল Logo ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মেক্সিকো Logo সরকারের ৫ মাস পূর্তি, আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় Logo রংপুরে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা Logo রক্ত, আগুন আর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশ Logo আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্বে বদিউর রহমান ও সেলিম রহমান

চীনের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের, তবুও…

চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে দুই মাস পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে হোয়াইট হাউস। এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, “চীন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্যের নিরাপত্তা ভঙ্গ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনা সরকার চেয়েছিল, আমি যেন ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হই।”

ট্রাম্পের ভাষ্য, চীন তাকে হারাতে চেয়েছিল কারণ তিনি বেইজিংয়ের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

“তারা জানতো, আমি তাদের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। আমি তাদের ওপর শত শত বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ করেছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছি,” বলেন তিনি।

তবে এত গুরুতর অভিযোগ তুললেও ট্রাম্পের বক্তব্যে চীনের বিরুদ্ধে কোনও নতুন নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ছিল না।

শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি বহাল
ভাষণের পরদিন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।

চীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পর বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।

এদিকে নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে, তাহলে বর্তমান উত্তর আমেরিকান সহ-আয়োজকদের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে আয়োজন করলে ম্যাচগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় কম লাগবে। খেলোয়াড়রাও এটি পছন্দ করবে।” ট্রাম্প জানান, এই ধারণাটি তাকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনী তথ্য চুরির অভিযোগের কোনও উল্লেখ করেননি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিলেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চীনের এই তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।

এ ঘটনায় চারটি ফেডারেল সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যারা তথ্য গোপনের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প এখনও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

শি জিনপিংয়ের প্রতি ট্রাম্পের ইতিবাচক অবস্থান
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বড় ভক্ত।”

তিনি ইরান যুদ্ধের সময় চীনের তুলনামূলক সংযত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। যুদ্ধ শুরুর দিকে আশঙ্কা ছিল, বেইজিং তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত চীন সরাসরি সেই পথে যায়নি বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।”

তিনি বলেন, “চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনও আগ্রহ আমাদের নেই এবং আমরা কখনও তা করিনি।”

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাই অগ্রাধিকার
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শুল্কযুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

গত মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফরে গেলে শি জিনপিং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানান। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে আবার দুই নেতার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও শি জিনপিং অংশ নিতে পারেন।

কী বলছে গোয়েন্দা নথি?
ট্রাম্প প্রশাসন যে গোপন নথিগুলো প্রকাশ করেছে, সেখানে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি বা ভোট পরিবর্তনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে নথিগুলোতে বলা হয়েছে, চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ মার্কিন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রচার শিবিরের কর্মকর্তাদের ই-মেইল নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছিল।

একটি অবমুক্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের একটি হ্যাকার গ্রুপ বাইডেন প্রচার শিবিরের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করছিল, যাতে ভবিষ্যতে আরও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো সম্ভব হয়।

আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনা সরকারি সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ডাউনলোড করেছিল। তবে এসব তথ্যের অনেকটাই আগে থেকেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকাশিত নথিতে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে, চীন ভোট পরিবর্তন করতে পেরেছিল অথবা ভোটিং ব্যবস্থায় এমনভাবে প্রবেশ করেছিল, যাতে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়া সম্ভব হতো।

দীর্ঘদিনের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বহু বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, চীন ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর তথ্য চুরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টে বড় ধরনের সাইবার হামলার পর থেকে ওয়াশিংটনের দাবি, চীনা গোয়েন্দারা কোটি কোটি মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও বলেছিলেন, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য চীনের প্রচেষ্টার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে, যদিও শি জিনপিং এর আগে এমন কর্মকাণ্ড না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছিল। তবে এবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করেছে। তারপরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নতুন কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

 সূত্র: সিএনএন

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্মৃতির করিডোরে শুধুই শূন্যতা: এক আলোকবর্তিকার অকালে বিদায়

চীনের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের, তবুও…

আপডেট সময় ১১:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে দুই মাস পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতিও অব্যাহত রেখেছে হোয়াইট হাউস। এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, “চীন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্যের নিরাপত্তা ভঙ্গ ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনা সরকার চেয়েছিল, আমি যেন ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হই।”

ট্রাম্পের ভাষ্য, চীন তাকে হারাতে চেয়েছিল কারণ তিনি বেইজিংয়ের নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

“তারা জানতো, আমি তাদের ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। আমি তাদের ওপর শত শত বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ করেছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছি,” বলেন তিনি।

তবে এত গুরুতর অভিযোগ তুললেও ট্রাম্পের বক্তব্যে চীনের বিরুদ্ধে কোনও নতুন নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা ছিল না।

শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি বহাল
ভাষণের পরদিন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।

চীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পর বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের প্রতিক্রিয়া বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।

এদিকে নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে, তাহলে বর্তমান উত্তর আমেরিকান সহ-আয়োজকদের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসঙ্গে আয়োজন করলে ম্যাচগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় কম লাগবে। খেলোয়াড়রাও এটি পছন্দ করবে।” ট্রাম্প জানান, এই ধারণাটি তাকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই অনুষ্ঠানে তিনি নির্বাচনী তথ্য চুরির অভিযোগের কোনও উল্লেখ করেননি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিলেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চীনের এই তথ্য তার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।

এ ঘটনায় চারটি ফেডারেল সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যারা তথ্য গোপনের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প এখনও ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী।

শি জিনপিংয়ের প্রতি ট্রাম্পের ইতিবাচক অবস্থান
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বড় ভক্ত।”

তিনি ইরান যুদ্ধের সময় চীনের তুলনামূলক সংযত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন। যুদ্ধ শুরুর দিকে আশঙ্কা ছিল, বেইজিং তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত চীন সরাসরি সেই পথে যায়নি বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “এই অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।”

তিনি বলেন, “চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনও আগ্রহ আমাদের নেই এবং আমরা কখনও তা করিনি।”

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এমন আচরণ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখাই অগ্রাধিকার
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শুল্কযুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর ওয়াশিংটন ও বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

গত মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফরে গেলে শি জিনপিং তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানান। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে আবার দুই নেতার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও শি জিনপিং অংশ নিতে পারেন।

কী বলছে গোয়েন্দা নথি?
ট্রাম্প প্রশাসন যে গোপন নথিগুলো প্রকাশ করেছে, সেখানে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি বা ভোট পরিবর্তনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে নথিগুলোতে বলা হয়েছে, চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ মার্কিন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রচার শিবিরের কর্মকর্তাদের ই-মেইল নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছিল।

একটি অবমুক্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের একটি হ্যাকার গ্রুপ বাইডেন প্রচার শিবিরের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করছিল, যাতে ভবিষ্যতে আরও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো সম্ভব হয়।

আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনা সরকারি সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ডাউনলোড করেছিল। তবে এসব তথ্যের অনেকটাই আগে থেকেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকাশিত নথিতে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে, চীন ভোট পরিবর্তন করতে পেরেছিল অথবা ভোটিং ব্যবস্থায় এমনভাবে প্রবেশ করেছিল, যাতে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়া সম্ভব হতো।

দীর্ঘদিনের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বহু বছর ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, চীন ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর তথ্য চুরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টে বড় ধরনের সাইবার হামলার পর থেকে ওয়াশিংটনের দাবি, চীনা গোয়েন্দারা কোটি কোটি মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও বলেছিলেন, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য চীনের প্রচেষ্টার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে, যদিও শি জিনপিং এর আগে এমন কর্মকাণ্ড না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছিল। তবে এবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করেছে। তারপরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নতুন কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

 সূত্র: সিএনএন

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ