রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে যেন সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও সরকারি বরাদ্দ বণ্টনে দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে সুষমতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের সব নাগরিক সমানভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পান।’
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
ডা. শফিক বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও আর্থিক পদক্ষেপে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। সংরক্ষিত আসনের সরকারি দলের সদস্যদের বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মিলনমেলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও কার্যকর হবে, মানুষের আস্থা তত বাড়বে। তিনি সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে স্পিকারের আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ পাননি। ভবিষ্যতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলকে কার্যকরভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যা, ভূমিধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চার বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। রাজধানীকে দৃষ্টিনন্দন ও বাসযোগ্য করতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সরকারি অর্থ অপচয় রোধে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের নামে নামফলক বসানোর সংস্কৃতি বন্ধ করারও দাবি জানান ডা. শফিক। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক বদলাতে গিয়ে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান জামায়াত আমির। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার দাবিও জানান।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















