ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশ গবেষণায় চীনের বড় সাফল্য

মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের পর পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় মাইলফলক স্পর্শ করল বেইজিং। 

চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটের ওপরের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর এর বুস্টারটি খাড়াভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং সমুদ্রের একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।

সাধারণত মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর রকেটের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে রকেটের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ বুস্টার বারবার ব্যবহার করা গেলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ অভিযানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। 

এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্স তাদের ‘ফ্যালকন ৯’ এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্লু অরিজিন তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের সফল বুস্টার অবতরণ করিয়েছিল। বর্তমানে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বছরে প্রায় ১৫০ বার মহাকাশে পাড়ি জমায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ‘লং মার্চ ১০এ’ রকেটের মাধ্যমে প্রথমবার এমন চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে সেটি প্ল্যাটফর্মের পাশে সাগরে গিয়ে পড়েছিল। এবার সফল হওয়া লং মার্চ ১০বি রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহন করতে সক্ষম, যা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর সমতুল্য। তবে ফ্যালকন ৯ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটিতে বা ড্রোনশিপে নামলেও চীনা রকেটের অবতরণ কৌশল একটু ভিন্ন। এর ল্যান্ডিং হুক ভাসমান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত একটি জালকে আঁকড়ে ধরে অবতরণ সম্পন্ন করে।

এই অভাবনীয় সাফল্যের পর চীনের আর্থিক বাজারে দেশটির মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়েছে। চীন স্পেসস্যাট এবং চীন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস উভয়েরই শেয়ারের দাম দেশের আর্থিক নিয়মের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মহাকাশ গবেষণায় চীনের বড় সাফল্য

আপডেট সময় ১১:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মহাকাশ গবেষণায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের পর পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় মাইলফলক স্পর্শ করল বেইজিং। 

চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ চীনের হাইনান থেকে ‘লং মার্চ ১০বি’ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটের ওপরের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর এর বুস্টারটি খাড়াভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং সমুদ্রের একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।

সাধারণত মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর রকেটের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে রকেটের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ বুস্টার বারবার ব্যবহার করা গেলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ অভিযানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। 

এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে স্পেসএক্স তাদের ‘ফ্যালকন ৯’ এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্লু অরিজিন তাদের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের সফল বুস্টার অবতরণ করিয়েছিল। বর্তমানে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ বছরে প্রায় ১৫০ বার মহাকাশে পাড়ি জমায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ‘লং মার্চ ১০এ’ রকেটের মাধ্যমে প্রথমবার এমন চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে সেটি প্ল্যাটফর্মের পাশে সাগরে গিয়ে পড়েছিল। এবার সফল হওয়া লং মার্চ ১০বি রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহন করতে সক্ষম, যা স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর সমতুল্য। তবে ফ্যালকন ৯ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটিতে বা ড্রোনশিপে নামলেও চীনা রকেটের অবতরণ কৌশল একটু ভিন্ন। এর ল্যান্ডিং হুক ভাসমান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত একটি জালকে আঁকড়ে ধরে অবতরণ সম্পন্ন করে।

এই অভাবনীয় সাফল্যের পর চীনের আর্থিক বাজারে দেশটির মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়েছে। চীন স্পেসস্যাট এবং চীন স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস উভয়েরই শেয়ারের দাম দেশের আর্থিক নিয়মের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্র: বিবিসি

বাংলা৭১নিউজ/জেএস