ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাঠে হলেন গোলমেশিন, প্রেমের মাঠে কেমন হালান্ড

মাঠে দুর্দান্ত গোল করার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তবে ফুটবল মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন একেবারেই শান্ত, সাদামাটা এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তার সুখী সংসার।

জানা যায়, হালান্ড ও ২২ বছর বয়সী মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসাবেলের প্রেমের শুরু হয়েছিল একটি ব্যক্তিগত বার্তা (ডিএম) থেকে। যদিও দুজনের পরিচয় ছিল ছোটবেলা থেকেই, সম্পর্কের সূচনা হয় অনেক পরে।

ইসাবেল বর্তমানে মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত হলেও একসময় ফুটবলার ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নরওয়ের ক্লাব ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে শুরু করেন। হালান্ড ও ইসাবেল দুজনেরই বেড়ে ওঠা নরওয়ের ছোট শহর ব্রিনেতে এবং দুজনই স্থানীয় ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে খেলেছেন।

হালান্ড জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তিনি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর ইসাবেলই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বার্তা পাঠান। এ বিষয়ে হালান্ড বলেন, সেই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাব ব্রিনের হয়ে খেলতাম। আসলে সেই প্রথম আমাকে পছন্দ করেছিল, আমি নই।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ডের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড বলে ধারণা করা হলেও, তাদের জীবনযাপন বেশ সাধারণ। বিলাসী আয়োজনের চেয়ে ঘরে একসঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই যুগল।

নিজেদের আদর্শ ডেট নাইট সম্পর্কে হালান্ড বলেন, তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন, আর ইসাবেলের প্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’। অবসরে তারা একসঙ্গে গেম খেলেন, ভার্চুয়াল ঘরবাড়ি তৈরি করেন। সুযোগ পেলে ব্রিনেতে ফিরে গিয়ে কাবাবও উপভোগ করেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হালান্ড ও ইসাবেলের ঘরে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান, একটি পুত্রসন্তান। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়ায় এখন পর্যন্ত সন্তানের নাম কিংবা ছবি প্রকাশ করেননি তারা।

নরওয়ের ‘কেকে’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসাবেল বলেন, আমি আমার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। একই সঙ্গে মানুষ যেন আমাকে এবং আমি কে, সেটিও জানতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের সীমারেখা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন এই দম্পতি। হালান্ডের সাপ্তাহিক বেতন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড বলে জানা যায়। সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের চেশায়ারে প্রায় ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে ১০ শয়নকক্ষের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন। বিশাল এই বাড়িতে রয়েছে একটি হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বড় বাগান, কোচ হাউস এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

এ ছাড়া প্রায় এক কোটি পাউন্ড মূল্যের সুপারকার সংগ্রহ রাখার জন্য চারটি গাড়ির বিশেষ গ্যারেজ নির্মাণের অনুমতিও পেয়েছেন তিনি। তার সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বিরল বুগাত্তি টুরবিয়োঁ।

ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আধুনিক যুগের একজন ফুটবলারের প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে হালান্ডের নতুন বাড়িতে। পাশাপাশি নির্জন পরিবেশ তাকে ফুটবলের ব্যস্ততা ও চাপ থেকে দূরে থেকে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

হালান্ডের বিশ্বাস, ইসাবেলের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতাই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তার ভাষায়, সে নিজেও ফুটবল খেলেছে। তাই আমার ক্যারিয়ার, খেলার চাপ ও বাস্তবতা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে। এটা আমাদের সম্পর্কের জন্য দারুণ একটি বিষয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠে হলেন গোলমেশিন, প্রেমের মাঠে কেমন হালান্ড

আপডেট সময় ১১:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মাঠে দুর্দান্ত গোল করার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তবে ফুটবল মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবন একেবারেই শান্ত, সাদামাটা এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনের সঙ্গে গড়ে উঠেছে তার সুখী সংসার।

জানা যায়, হালান্ড ও ২২ বছর বয়সী মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইসাবেলের প্রেমের শুরু হয়েছিল একটি ব্যক্তিগত বার্তা (ডিএম) থেকে। যদিও দুজনের পরিচয় ছিল ছোটবেলা থেকেই, সম্পর্কের সূচনা হয় অনেক পরে।

ইসাবেল বর্তমানে মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত হলেও একসময় ফুটবলার ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নরওয়ের ক্লাব ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে শুরু করেন। হালান্ড ও ইসাবেল দুজনেরই বেড়ে ওঠা নরওয়ের ছোট শহর ব্রিনেতে এবং দুজনই স্থানীয় ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে খেলেছেন।

হালান্ড জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তিনি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর ইসাবেলই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বার্তা পাঠান। এ বিষয়ে হালান্ড বলেন, সেই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাব ব্রিনের হয়ে খেলতাম। আসলে সেই প্রথম আমাকে পছন্দ করেছিল, আমি নই।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হালান্ডের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড বলে ধারণা করা হলেও, তাদের জীবনযাপন বেশ সাধারণ। বিলাসী আয়োজনের চেয়ে ঘরে একসঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই যুগল।

নিজেদের আদর্শ ডেট নাইট সম্পর্কে হালান্ড বলেন, তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন, আর ইসাবেলের প্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’। অবসরে তারা একসঙ্গে গেম খেলেন, ভার্চুয়াল ঘরবাড়ি তৈরি করেন। সুযোগ পেলে ব্রিনেতে ফিরে গিয়ে কাবাবও উপভোগ করেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হালান্ড ও ইসাবেলের ঘরে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান, একটি পুত্রসন্তান। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়ায় এখন পর্যন্ত সন্তানের নাম কিংবা ছবি প্রকাশ করেননি তারা।

নরওয়ের ‘কেকে’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসাবেল বলেন, আমি আমার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চাই। একই সঙ্গে মানুষ যেন আমাকে এবং আমি কে, সেটিও জানতে পারে। তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের সীমারেখা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন এই দম্পতি। হালান্ডের সাপ্তাহিক বেতন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড বলে জানা যায়। সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের চেশায়ারে প্রায় ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে ১০ শয়নকক্ষের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন। বিশাল এই বাড়িতে রয়েছে একটি হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বড় বাগান, কোচ হাউস এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

এ ছাড়া প্রায় এক কোটি পাউন্ড মূল্যের সুপারকার সংগ্রহ রাখার জন্য চারটি গাড়ির বিশেষ গ্যারেজ নির্মাণের অনুমতিও পেয়েছেন তিনি। তার সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বিরল বুগাত্তি টুরবিয়োঁ।

ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, আধুনিক যুগের একজন ফুটবলারের প্রয়োজনীয় সব সুবিধাই রয়েছে হালান্ডের নতুন বাড়িতে। পাশাপাশি নির্জন পরিবেশ তাকে ফুটবলের ব্যস্ততা ও চাপ থেকে দূরে থেকে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

হালান্ডের বিশ্বাস, ইসাবেলের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতাই তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তার ভাষায়, সে নিজেও ফুটবল খেলেছে। তাই আমার ক্যারিয়ার, খেলার চাপ ও বাস্তবতা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে। এটা আমাদের সম্পর্কের জন্য দারুণ একটি বিষয়।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস