ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সী ইমাম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত ১০১ বছর বয়সী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি। খামেনির শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জানাজা পরিচালনার জন্য এই প্রবীণ আলেমকে নির্বাচন করা হয়।

১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা তার বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ইরানের পবিত্র নগরী কোম-এ দীর্ঘ সময় ধরে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও অভিভাবক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামি ইতিহাসের কালজয়ী তাত্ত্বিক পণ্ডিত আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর সরাসরি শিষ্য ছিলেন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তাদের কাছ থেকে শিক্ষালাভের পর তিনি নিজেকে একজন প্রাজ্ঞ ইসলামি গবেষক হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি ইরান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ইরানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়াবলি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বরাবরই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং খামেনি সরকারের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। শিয়া অনুসারীদের কাছে ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে তার মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির জানাজা পড়ালেন ১০১ বছর বয়সী ইমাম

আপডেট সময় ০৪:০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন শিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রবীণ ধর্মীয় পণ্ডিত ১০১ বছর বয়সী গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি। খামেনির শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জানাজা পরিচালনার জন্য এই প্রবীণ আলেমকে নির্বাচন করা হয়।

১৯২৫ সালের মার্চ মাসে ইরানের হামাদান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ হোসেইন নূরি হামেদানি। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা তার বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি ইসলামি জ্ঞানচর্চায় অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ইরানের পবিত্র নগরী কোম-এ দীর্ঘ সময় ধরে শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও অভিভাবক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামি ইতিহাসের কালজয়ী তাত্ত্বিক পণ্ডিত আল্লামা তাবাতাবাই এবং গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ বোরুজেরদীর সরাসরি শিষ্য ছিলেন। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে তাদের কাছ থেকে শিক্ষালাভের পর তিনি নিজেকে একজন প্রাজ্ঞ ইসলামি গবেষক হিসেবে গড়ে তোলেন। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি ইরান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে বিশ্বজুড়ে ইরানি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়াবলি দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বরাবরই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং খামেনি সরকারের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় ঐতিহ্যবাহী শিয়া মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি সর্বদা আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। শিয়া অনুসারীদের কাছে ‘মারজা’ বা অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক হিসেবে তার মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস