ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী Logo এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন সারোয়ার আলমগীর, হাইকোর্টের রায় Logo আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী Logo মেথিকান্দা রেলস্টেশনে নির্যাতনের শিকার সেই বাকপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধার মৃত্যু Logo রাষ্ট্রীয় সম্পদে নতুন প্রাণ, বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ Logo চকরিয়ায় বাড়ির ওপর পাহাড় ধসে চাচাতো ভাই-বোন নিহত Logo দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবার পরিধি বাড়ানো হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা Logo ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২৯৬, মামলা ৪৬ Logo রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

রাষ্ট্রীয় সম্পদে নতুন প্রাণ, বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্প সম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি ‘জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড’-এর কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হয়। তাই বন্ধ মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি কিংবা যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পিপিপি মডেলে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭ দশমিক শূন্য ২ একর জমির মধ্যে পূর্বে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড-কে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি মিল লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি ও অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি, বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে হায়দার বলেন, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি’র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ  চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় সম্পদে নতুন প্রাণ, বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

আপডেট সময় ০১:১৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অলস শিল্প সম্পদকে উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি ‘জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড’-এর কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং দায়ে পরিণত হয়। তাই বন্ধ মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি কিংবা যৌথ মালিকানাভিত্তিক বিভিন্ন পিপিপি মডেলে রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭ দশমিক শূন্য ২ একর জমির মধ্যে পূর্বে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড-কে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি মিল লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি ও অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি, বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।

জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে হায়দার বলেন, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি’র সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ  চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ